চলতি মাসের ১৬ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪৪৩ পয়েন্ট হারিয়েছে। গতকাল সোমবারই সূচকটি ১২০ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৮৮৫ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকের এ অবস্থান গত ১ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন এবং গত ৪ এপ্রিলের পর এক দিনের সর্বোচ্চ পতন।\হগতকাল ডিএসইতে ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০৭টিই দর হারিয়েছে, বেড়েছে মাত্র ৪৭টির দর। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৪ শেয়ারের মধ্যে ২৪৬টির দর কমেছে। দুই বাজার মিলে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি টাকার শেয়ার।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সর্বশেষ আট কার্যদিবসের প্রতিদিনই ডিএসইএক্স সূচক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সর্বনিম্ন ১০০ পয়েন্টের বেশি হারিয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে পরে ৮৯ পয়েন্ট হারায়। অর্থাৎ লেনদেনের মাঝেই সূচক হারিয়েছিল ১৭৮ পয়েন্ট।

এমন দরপতনে ছোট-বড় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারী তাদের সাম্প্রতিক বিনিয়োগে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। নতুন করে বিনিয়োগের ক্ষমতা হারিয়েছেন। এতে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দরপতনের প্রতিবাদে কিছু সাধারণ বিনিয়োগকারী রাজধানী মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুরোনো কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে গতকাল বিক্ষোভ করেছেন।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু চলতি অক্টোবরের ১৬ কার্যদিবসে তালিকাভুক্ত ৩৪৩ কোম্পানির শেয়ার, ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড এবং দুটি করপোরেট বন্ডের মধ্যে ৩৪৭টির দর কমেছে ১ থেকে ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ থেকে তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত দর হারিয়েছে ১০৪ কোম্পানির শেয়ার। ১০ শতাংশ বা তার বেশি দর হারিয়েছে অন্তত ২৩৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড।

তবে অল্প সময়ে শেয়ার দরের এত সূচকের পতন দেখে বোঝা যাচ্ছে না। এর কারণ ব্যাখ্যায় বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, বৃহৎ মূলধনের কিছু কোম্পানি মূল্য সূচকের ওঠানামায় সর্বাধিক প্রভাব রাখছে। সিংহভাগ শেয়ারের প্রভাব সূচকে খুবই কম। যেমন- গতকাল বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৩০ পয়সা বা সোয়া ৪ শতাংশ দরপতনে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক হারিয়েছে ১৭ পয়েন্ট। কিন্তু দরপতনের শীর্ষে থাকা অলিম্পিক এক্সেসরিজ, সামিট পাওয়ার, ড্রাগন সোয়েটার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ইসলামিক ফাইন্যান্স, এসক্যোয়ার নিট, ফারইস্ট লাইফ এবং এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের ৮ থেকে ১০ শতাংশ দরপতনও সূচকের পতনে তেমন প্রভাব রাখেনি।

এমন দরপতনের মুখেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মনে করছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিকই আছে। চলতি দরপতনকে 'দর সংশোধন' হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, গত জুলাই থেকে ১২শ পয়েন্টের বেশি সূচক বেড়ে এখন ৩শ থেকে ৪শ পয়েন্ট পড়ে যাওয়া তেমন বড় কিছু নয়। এটা স্বাভাবিক। সূচক বৃদ্ধির সময়ে যেসব শেয়ারের দর অনেকটাই বেড়েছিল, 'স্মার্ট' বিনিয়োগকারীরা সেসব শেয়ার বিক্রি করে এখন মুনাফা নিচ্ছেন। এতে শেয়ারদর স্বাভাবিক পর্যায়ে আসছে। ওঠানামার মধ্য দিয়ে শেয়ারদর ও সূচক এগোলে বাজার টেকসই হবে। সামান্য এ পতনে বিনিয়োগকারীদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার এবং ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এ সুযোগে ভালো শেয়ারে ভালো মূল্যে বিনিয়োগ করার সুযোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

চলতি দরপতন বিষয়ে জানতে চাইলে শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা নতুন করে শেয়ার কেনার তুলনায় বিক্রি করছেন বেশি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব শেয়ারের দর অনেক বেড়েছিল, সেগুলো বিক্রি করে মুনাফা তুলছেন। দেখা যাচ্ছে, দুই-এক মাস আগে যারা আগ্রাসী ক্রেতা ছিলেন, এখন তাদের বেশিরভাগই বিক্রেতার দলে। এর মধ্যে কেউ কেউ বেশ খানিকটা দর হারানো শেয়ার নতুন করে কিনছেন, তবে অপেক্ষাকৃত কম দরে শেয়ার কেনায় মনোযোগ বেশি। এতে বাজারে ক্রেতা সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দরপতন বাড়ছে। তবে এ ধারা শিগগিরই শেষ হবে বলে মত তাদের।

মন্তব্য করুন