মঙ্গলবারও লেনদেন শুরুর দিকে বড় পতন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২০ পয়েন্ট বেড়ে রোববারের অবস্থান ৭০০৫ পয়েন্টে ফিরে এসেছে। সোমবার সূচক ঠিক ১২০ পয়েন্টই হারিয়েছিল। সূচকের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হস্তক্ষেপ ছিল বলে বাজারের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৪০টির দর বেড়েছে। কমেছে মাত্র ২২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির দর। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ২৪৫টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩৩টির। সর্বাধিক সাড়ে ৬ শতাংশ দর বেড়েছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের। গড়ে ৫ শতাংশ দর বেড়েছে বস্ত্র, সিরামিক, সেবা ও নির্মাণ, কাগজ ও ছাপাখানা এবং পাট খাতের। বীমা খাতে গড়ে পৌনে ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। সবচেয়ে কম বেড়েছে ব্যাংক খাতের।

শেষ পর্যন্ত সিংহভাগ শেয়ারের দর ও সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়লেও দিনের লেনদেনের শুরুটা ভয় ধরানো ছিল। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে। মাত্র ১০ মিনিটে ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬৯৫২ পয়েন্ট ছাড়ায়। এরপরই বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে হুহু করে পয়েন্ট হারাতে থাকে। দুপুর পৌনে ১২টায় দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৯৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৮৫৭ পয়েন্টে নামে। সূচকের এ পতনের বড় কারণ ছিল স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন, বিএটিবি, বিকন ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, সামিট পাওয়ারসহ বৃহৎ মূলধনি শেয়ার। এ অবস্থায় সূচকের পতন দেখে অন্য শেয়ারগুলো দর হারাতে থাকে।

বাজার সূত্র জানায়, এ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিক থেকে শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দর হারানো বৃহৎ মূলধনি শেয়ারগুলো দর ফিরে পেতে থাকে। এতে সূচকও বাড়ে, যার দেখাদেখি অন্য শেয়ারগুলোর দর বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ৪৭ শেয়ারের দর ৯ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ৩৩ শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়, ছিল বিক্রেতাশূন্য। অবশ্য এত দরবৃদ্ধির পরও শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ সোমবারের তুলনায় সাড়ে ৮৩ কোটি টাকা কমে এক হাজার ৩৮৭ কোটি টাকারও নিচে নেমেছে।

মন্তব্য করুন