সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) কর্মসূচির আওতায় 'সমন্বিত বাণিজ্য সহজীকরণ উন্নয়ন' শীর্ষক একটি প্রকল্প নিচ্ছে এনবিআর। সাসেক হচ্ছে বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে অংশীদারিত্ব উন্নয়নের একটি কর্মসূচি, যার আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআর যে প্রকল্পটি নিচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য সীমান্তের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, যাতে শিল্পায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য আনা-নেওয়া দ্রুত ও খরচ কম হয়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য আরও নিরাপদ হয়। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য জাকিয়া সুলতানা সমকালকে বলেন, প্রকল্পটির প্রস্তাবনা বা ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। সেখানে প্রকল্পের বিস্তারিত থাকবে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এ প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ৫১ কোটি টাকা দেবে। বাকি ২৬৩ কোটি টাকা আসবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে নমনীয় ঋণ হিসেবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন শুল্ক্ক স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এর আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে আধুনিক কাস্টম হাউসের ভবন নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। তিনটি স্থলবন্দরের ভবন নির্মাণে ৮৬ কোটি টাকা খরচ করা হবে। আর তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্রের জন্য প্রাথমিকভাবে ১২৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কাস্টমস সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। এর অধীনে কেন্দ্রীয় কাস্টম ওয়্যার হাউস ও ল্যাবরেটরি এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে। এর পাশাপাশি বিবিরবাজার, বিরল, দর্শনা, শেওলা, সোনাহাট, টেকনাফ স্থলবন্দরসহ আরও কয়েকটি স্থলবন্দরের শুল্ক্ক স্টেশনের উন্নয়ন করা হবে।

বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য অংশীদার ভারতের সঙ্গে যে আমদানি রপ্তানি হয়, তার বড় অংশ হয়ে থাকে স্থলবন্দরের মাধ্যমে। ভারত তাদের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে সহজে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কয়েকটি বন্দর ব্যবহার করছে। মিয়ানমারের সঙ্গেও বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত দিয়ে আমদানি-রপ্তানি রয়েছে। এর পাশাপাশি নেপাল বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে পণ্য নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। রয়েছে ভুটানের সঙ্গে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি। ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ফলে স্থলবন্দরগুলোর উন্নয়ন হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক নূরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, তামাবিল স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা খুবই জরুরি। কারণ, ভারতের সেভেন সিস্টার হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোর প্রবেশদ্বার এ বন্দর। সেভেন সিস্টার বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি বাজার।

মন্তব্য করুন