বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে মাত্র তিন বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পণ্য রপ্তানিতে বর্তমান সহজ পদ্ধতির শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা থাকবে। এর পর বাণিজ্য সুবিধা পেতে হলে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করতে হবে অথবা জিএসপি প্লাসের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আর এ জন্য উৎপাদন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্সে জোর দিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে এক ওয়েবিনারে আলোচকরা এমন পরামর্শ দেন। 'বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা' শীর্ষক ওয়েবিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি ছিলেন।

মূল প্রবন্ধে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে রুল অব অরিজিনের ক্ষেত্রে কঠিন নীতিমালার মুখোমুখি হতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইইউর দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এফটিএ এবং পিটিএ স্বাক্ষর করা প্রয়োজন।\হবাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন, ভবিষ্যতে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। এখনই সচেতনভাবে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নিতে হবে, যার মাধ্যমে নতুন জিএসপি প্লাস পেতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, চার দশকে আমাদের তৈরি পোশাক খাতে প্রচুর উন্নতি হয়েছে। তবে ইইউর নতুন জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে কমপ্লায়েন্সের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখীকরণের প্রস্তাব করেন এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

ইয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিন উদ-দৌলা বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিকায়নে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।\হইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও জাভেদ আকতার বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ২৩ মার্কিন ডলারের ফাস্ট মুভিং কনজিউমার প্রডাক্টস (এফএমসিজি) পণ্য গ্রহণ করে থাকেন এবং বিশেষ করে। বাংলাদেশ থেকে মুনাফা পেতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির এজাজ বিজয় বলেন, আর্থিক খাতের জন্য বাংলাদেশের বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ খাতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে তা সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলে মুনাফা অর্জন সম্ভব।

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে, যা গ্রহণের মাধ্যমে বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।

মন্তব্য করুন