দুই দফায় সংশোধনের পর এবার সূচকভিত্তিক মার্জিন ঋণ নীতি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তবে কোন শেয়ার মার্জিনযোগ্য আর কোনটি নয়, সে ক্ষেত্রে মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিওভিত্তিক মানদণ্ড বহাল থাকবে। সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও চিন্তাভাবনা পর্যায়ে আছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অব্যাহত দরপতনের পর গত মঙ্গলবার এ নীতি সংশোধন বা প্রত্যাহারের গুঞ্জন ওঠে। মার্জিন হার বাড়ানো হচ্ছে বা সূচকভিত্তিক মার্জিন ঋণ নীতি স্থগিত বা প্রত্যাহার হচ্ছে- এমন আলোচনা ছিল। গত মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে যা প্রভাব রেখেছে বলে বাজার-সংশ্নিষ্টদের ধারণা। এ সময়ে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছিল ১৯৬ পয়েন্ট। যদিও তার আগের আট কার্যদিবসে সূচকটি হারিয়েছিল ২৬২ পয়েন্ট।

বর্তমানে কোনো শেয়ার মার্জিনযোগ্য কিনা, তা নির্ধারণ হয় ২০১০ সালের ১৫ জুনের নির্দেশনা অনুযায়ী। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পিই রেশিও ৪০ পর্যন্ত থাকলে সেই শেয়ার মার্জিনযোগ্য। পিই রেশিও এর ওপরে হলে তা মার্জিনযোগ্য নয়। তবে মার্জিন ঋণ হার কত হবে, তা নির্ধারণ হয় বাজার মূল্যসূচক কত পয়েন্টে রয়েছে তার ওপর।

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, ডিএসইএক্স ৪০০০ পয়েন্টের নিচে থাকলে মার্জিন হার হবে ১০০ শতাংশ। সূচক ৪০০০, ৫০০০ এবং ৬০০০ পয়েন্ট পার করলে এ হার ক্রমান্বয়ে ৭৫, ৫০ এবং ২৫ শতাংশে নামাতে হবে। গত মার্চ-এপ্রিল সময়কালে সূচক ৬০০০ পয়েন্টের কাছে এসে বারবার মুখথুবড়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আগের নীতিমালা স্থগিত করে একক পয়েন্টভিত্তিক নীতি আরোপ করে বিএসইসি। এ নীতি অনুযায়ী, সূচক ৭০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত মার্জিন হার হবে ৮০ শতাংশ এবং ৭০০০ পয়েন্ট পার করলে হবে ৫০ শতাংশ। তবে গত ১৬ আগস্ট এসে ফের ওই নীতিও সংশোধন করা হয়। এবার সূচকের ভিত্তি পয়েন্ট করা হয় ৮০০০, যা এখনও কার্যকর।

সূচককেন্দ্রিক মার্জিন হার নীতি তুলে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিএসইসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ নীতির কারণে সূচক নির্দিষ্ট পয়েন্টের কাছে যাওয়ার আগেই হোঁচট খাচ্ছে। এ কারণে এ নীতি প্রত্যাহারের চিন্তা করছেন তারা।

বাজার সংক্ষেপ :গতকাল ডিএসইতে বড় দরপতন হয়েছে। ৬৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৭৩টি দর হারিয়েছে। অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির দর। এতে ডিএসইএক্স প্রায় ৬৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৯৩০ পয়েন্টে নেমেছে। কেনাবেচা হয়েছে এক হাজার ১১১ কোটি টাকার শেয়ার।

মন্তব্য করুন