রেমিট্যান্সের নিম্নমুখী ধারার বিপরীতে রপ্তানি খাতে ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। গেল নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশেরও বেশি রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় বেড়েছে ৩১ শতাংশ। নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪০৪ কেটি ডলারের। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৪ শতাংশ।\হবৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৯২ কোটি ডলার। প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক থেকে এসেছে ১ হাজার ৫৮৬ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ। এ খাতের আয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। পোশাকের দুটি ক্যাটাগরির মধ্যে নিটওয়্যার থেকে বেশি এসেছে, যার পরিমাণ ৮৯৯ কোটি ডলার। আগের একই সময়ের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ওভেনে বেড়েছে ১৯ শতাংশ। এ সময়ে ওভেন ক্যাটাগরি থেকে ৬৮৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।\হউদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন ধরনের ভাইরাস ওমিক্রন বড় ধরনের শঙ্কায় না ফেললে রপ্তানির ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম সমকালকে বলেন, হাতে এখন রপ্তানি আদেশ আছে পর্যাপ্ত। আগামী কয়েক মাসের জন্য মোটামুটি

সব কারখানায় পর্যাপ্ত কাজ আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে রপ্তানির গতি আপাতত থামার কোনো কারণ নেই। তবে ওমিক্রন ভাইরাসের বিষয়ে ক্রেতারা কিছুটা সতর্ক। অবশ্য এখনও কোনো রপ্তানি আদেশ স্থগিত কিংবা বাতিলের ঘটনা ঘটেনি।\হবাড়তি চাহিদায় বাড়তি দর পাওয়া যাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, হাতে প্রচুর রপ্তানি আদেশ থাকায় দর নিয়ে আপস না করার জন্য বিজিএমইএর সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা। তবে নতুন ধরনের ভাইরাসের বাস্তবতায় পরিস্থিতি বুঝে দর নিয়ে হয়তো কিছুটা নমনীয় হতে হবে।\হবড় অঙ্কের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। প্রথমত- করোনাকাল কাটিয়ে প্রায় স্বাভাবিক চেহারায় ফিরেছে গোটা বিশ্ব। করোনাকালে জমে থাকা বিভিন্ন কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। পর্যটন বাড়ছে বিভিন্ন দেশে। ফলে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত- প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের কাঁচামাল তুলা এবং সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে দরও কিছুটা বেড়েছে। টাকার বিপরীতে ডলারের দরবৃদ্ধিও আয়ের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতিযোগী অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। যেমন- চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের মনোভাব তেমন ভালো নয়। দেশটিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত রয়েছে অনেক দিন ধরে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম অনেক ক্ষেত্রে চীননির্ভর। চীনের সংকটের একটা নেতিবাচক প্রভাব ভিয়েতনামের ওপরও পড়েছে।\হপোশাকবহির্ভূত খাত :ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৈরি পোশাকের বাইরে প্রায় সব পণ্যেরই রপ্তানি বেড়েছে। কমপ্লায়েন্স নিয়ে সংকটে থাকা চামড়া খাতের পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। আলোচ্য ৫ মাসে প্রায় ৪৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা ২৭ শতাংশ বেশি। কৃষিপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৪ শতাংশের বেশি। জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে প্রায় ৫৬ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে। মাছ রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ডলারের, যা আগের একই সময়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। হস্তশিল্প সামগ্রী রপ্তানি বেড়েছে ২১ শতাংশ। রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। এ খাতে প্রায় ১৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ওষুধ রপ্তানি থেকে এসেছে ৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ডলার।\হখুব কম সংখ্যক পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে, যার মধ্যে পাট ও পাটপণ্য অন্যতম। এ খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ শতাংশের মতো। অবশ্য অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কমলেও কাঁচাপাটের রপ্তানি বেড়েছে।

মন্তব্য করুন