আগে নগদ লভ্যাংশের মতো বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) পাস হলেই ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারত তালিকাভুক্ত কোম্পানি। গত ৩১ আগস্টে এ নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এজিএমে পাস হলেই বোনাস লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে না কিছু কোম্পানি, নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন। যাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে হবে তাদের বোনাস বিতরণে ফের রেকর্ড ডেট দিতে হবে। কিন্তু নতুন এ নিয়মের মারপ্যাঁচ রয়েছে। কোন কোম্পানির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে, আর কোনটিতে হবে না- তা নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারী তো বটেই, কোম্পানি ব্রোকারেজ হাউস এমনকি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জও এ বিভ্রান্তিতে পড়েছে।

নিয়মটি বুঝতে ভুল হওয়ায় কিছু কোম্পানির বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার পর ডিএসই তার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে জানায়, ওই কোম্পানির বোনাসের অনুমোদন শুধু এজিএমে নয়, এজিএম শেষে বিএসইসি থেকেও নিতে হবে এবং ঘোষণা করতে হবে নতুন রেকর্ড ডেট। কিন্তু পরে ঘোষণা দিয়ে আবার বলেছে যে, অনুমোদন লাগবে না। এ নিয়ে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্তির পর যে কোনো সময়ে পরপর দুই বছর ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা বা বিতরণ করতে পারবে না। স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা জানান, নির্দেশনার এ ধারা নিয়েই বিভ্রান্তি হয়েছে বেশি। কেউ কেউ বুঝেছে যে, সর্বশেষ ঘোষিত লভ্যাংশসহ আগের বছর মিলে মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ কোম্পানির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কেউ বুঝেছে যে, সর্বশেষ ঘোষিত লভ্যাংশের আগের দুই বছরে ১০ শতাংশ করে মোট অন্তত ২০ নগদ লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বিএসইসির সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আসলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর কোনো কোম্পানি যে কোনো পরপর দুই বছরের প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে মোট অন্তত ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে তার জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে নির্দেশনাটি ভুলভাবে জারি হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কমিশন চেয়েছিল, সর্বশেষ দুই বছরে যেসব কোম্পানি প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ, তাদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এটি সংশোধনের চিন্তাভাবনা চলছে।

গত ৩১ আগস্ট বিএসইসির জারি করা বোনাস লভ্যাংশ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, তালিকাভুক্তির পর যে কোনো পরপর দুই বছর অন্তত ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানি বিএসইসির পূর্বানুমোদন ছাড়া বোনাস শেয়ার ঘোষণা বা বিতরণ করতে পারবে না। পূর্বানুমোদন না নিয়ে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করলে পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশের পর প্রথমে এজিএমে অনুমোদন নিতে হবে। এরপর তা অনুমোদনের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করবে কোম্পানি। বিএসইসি অনুমোদন করলে কাদের মধ্যে ওই শেয়ার বিতরণ করা যাবে তা নির্ধারণে ফের রেকর্ড ডেট দিতে হবে। প্রক্রিয়াটি অনেকটা রাইট শেয়ার অনুমোদন ও বিতরণের মতো। আইপিও বা পুনঃআইপিও বা রাইট শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানি এবং অন্তত এক বছর উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি তিন বছর পার না করেই বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করলে তার ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নিয়ম চালুর পর এখন পর্যন্ত ৪০টি কোম্পানি শুধু বোনাস বা নগদের সঙ্গে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ডিএসইর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছিল, এর ২৪টির ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কিন্তু পরে ঘোষণা দিয়ে জানায়, বিডিকম, আর্গন ডেনিম, আমরা টেকনোলজিস, আমরা নেটওয়ার্কস, সিভিও পেট্রোক্যামিকেলসহ বেশ কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমোদন লাগবে না।

স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা জানান, বিএসইসির ব্যাখ্যার পর ১৫ কোম্পানির ক্ষেত্রে ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ এজিএমে অনুমোদনের পর বিএসইসির অনুমোদন দিতে হবে। এসব কোম্পানি হলো- এডভেন্ট ফার্মা, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন, ডমিনেট স্টিল, ফরচুন শুজ, জেনেক্স ইনফোসিস, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, কেএন্ডকিউ, প্যাসিফিক ডেনিম, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, আরডি ফুড, সাইফ পাওয়ার, এসএস স্টিল, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল ফিড এবং শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। এদিকে এ বিভ্রান্তির কারণে যেসব কোম্পানির এজিএম সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট বোনাস শেয়ারের জন্য প্রযোজ্য নয়, রেকর্ড ডেট শেষে তাদের শেয়ারদর কমছে।

বিএসইসির কর্মকর্তারা বলেন, নিয়মটি নতুন বলে বুঝতে সমস্যা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন