গত ডিসেম্বরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা ও বেচা উভয়ই কমেছে। এ সময় ২৬ কোম্পানিতে তাদের শেয়ার বেড়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ৯৮ কোটি টাকা। বিপরীতে ৪০টির বেশি কোম্পানি থেকে শেয়ার কমেছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা টাকার অঙ্কে যতটা বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন, তুলে নিয়েছেন তার দ্বিগুণ। নভেম্বরে ৪৬ কোম্পানি থেকে তাদের নিট পাঁচ কোটি ১৬ লাখ শেয়ার কমেছিল, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ২৭০ কোটি টাকা। বিপরীতে ২৮ কোম্পানিতে নিট আড়াই কোটি শেয়ার বেড়েছিল, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ১৪৬ কোটি টাকা।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার ধারণ বিষয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় এ তথ্য মিলেছে। তবে টাকার অঙ্কে প্রকৃত বিনিয়োগ মূল্য কিছুটা কমবেশি হতে পারে। প্রকৃত কত টাকার শেয়ার কেনাবেচা করছেন বিদেশিরা, গত তিন বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশে প্রকাশ করছে না উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টাকার অঙ্কে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ব্র্যাক ব্যাংকে। নভেম্বর শেষে ব্যাংকটিতে বিদেশি ও প্রবাসীদের ছিল মোটের ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে। শেয়ার বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ৮২ কোটি টাকা।

এরপর প্রায় সাত কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে আইএফআইসিতে, পাঁচ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকে, তিন কোটি টাকার বিনিয়োগ বেড়েছে রেকিট বেনকিজারে।

বিপরীতে আইডিএলসি থেকে বিদেশিদের প্রায় ৬৩ লাখ বা মোটের দেড় শতাংশের বেশি শেয়ার কমেছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ৩৮ কোটি টাকা। গ্রামীণফোন থেকে কমেছে ৩৩ কোটি টাকার। এমএল ডাইং থেকে প্রবাসী বিনিয়োগের পুরোটা প্রত্যাহার হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল ২৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া বেক্সিমকো ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিএটিবিসি থেকে কমে যাওয়া শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১০ থেকে ১৮ কোটি টাকা। আরও যেসব কোম্পানি থেকে বিদেশিদের শেয়ার কমেছে, তার অন্যতম হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, একমি পেসটিসাইজড, ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জ-হোলসিম, সিটি ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মা।

ডিসেম্বর শেষে তালিকাভুক্ত ৩৪৫ কোম্পানির মূলধনে বিদেশি ও প্রবাসীদের শেয়ার ছিল ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। এসব কোম্পানির বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এতে বিদেশিদের অংশ ছিল সোয়া ৪ শতাংশ।

মন্তব্য করুন