হজের শিক্ষা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

মুক্ত হাসান

হজের সফর এরূপ হওয়া আবশ্যক, যাতে এটা পরকালের সফরের পাথেয় হওয়ার উপযোগী হয়। কারণ হজযাত্রা এক হিসেবে পরলোকযাত্রার সমতুল্য। কারণ, হজযাত্রা কাবা শরিফের অধিপতির উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। অতএব, হজযাত্রার প্রত্যেক ঘটনায় পরলোকে যাত্রার অবস্থা স্মরণ করা উচিত। এই যাত্রাকালে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে বিদায় গ্রহণ বা মৃত্যুকালে তাদের কাছ থেকে বিদায় গ্রহণের সমতুল্য। হজযাত্রার আগে মানুষ যেমন পার্থিব সব বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে রওনা হয়, তদ্রূপ শেষ বয়সে পরকালযাত্রার আগে দুনিয়ার সব চিন্তা থেকে তার মনকে মুক্ত করা আবশ্যক। হাদিসে আছে, 'হজের সময় আরাফার ময়দানে দণ্ডায়মান হয়ে যদি কেউ মনে করে যে, আমার গুনাহ মাফ হলো না, তাহলে তদপেক্ষা অধিক গুনাহ আর কিছুই নেই।' হজে যাওয়ার সময় যেরূপ যথেষ্ট পরিমাণ পাথেয় সংগ্রহ করে নিতে হয় এবং যাতে এটা বিনষ্ট ও লুণ্ঠিত হয়ে নির্জন মরুপ্রান্তরে সম্বলহীন হয়ে পড়তে না হয়, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তদ্রূপ পরকালে ভয়ঙ্কর বিপদ সমাকীর্ণ হাশরের মাঠ অতিক্রম করার জন্য দুনিয়া থেকে পরলোকে মঙ্গলজনক সওয়াবও প্রচুর পরিমাণে সঙ্গে নেওয়া আবশ্যক। হজে যাত্রাকালে হাজিরা যা সহজে বিনষ্ট হয় এমন দ্রব্য সঙ্গে বহন করেন না। এরূপ যে ইবাদত লোক দেখানোর উদ্দেশে করা হয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ, এটাও পরলোকযাত্রার সম্বল হতে পারে না। হজযাত্রায় যানবাহনে আরোহণ পরকালের পথে জানাজায় আরোহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আরাফার ময়দানে প্রখর রোদ্র ও সূর্যালোকে হাঁটার সময় এবং কাবাগৃহের ছাদের পানি পড়ার নালি বা পাইপের কাছে উপস্থিত হলে হাজিদের স্মরণ করা উচিত, 'হে আল্লাহ, যেদিন তোমার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন তোমার আরশের ছায়ার নিচে আমাকে স্থান দিও। হে আল্লাহ, আমাকে হজরত মুহাম্মদের (সা.) পানপত্র থেকে পানীয় পান করিও, যেন কখনও পিপাসার্ত না হই।
যেমন ইহরামের সাদা ও সেলাইবিহীন দুটি চাদর পরিধান করার সময় পরলোকগমনের পথে কাফনের কাপড়ের কথা স্মরণ করা উচিত। কারণ আমরা অবগত যে, অন্যান্য প্রচলিত পোশাক থেকে কাফনের কাপড় স্বতন্ত্র। পাহাড়ে চূড়া ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করলে স্মরণ করা উচিত কবরের মনকার-নাকির ফেরেশতা ও সাপ-বিচ্চুর কথা। হজের পথে গমনে যেমন পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ত্যাগ করে একাকী চলতে হয়, কবরের গমনও তদ্রূপ একাকী হবে। 'লাব্বায়েক' বলার সময় মনে করতে হবে, এটা আল্লাহর আহ্বানের উত্তর মাত্র। কিয়ামত দিবসে আল্লাহর আহ্বান শোনা যাবে- সেই ভয়ের কথা স্মরণ করা কর্তব্য।
হজ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা যদি কোনো ব্যক্তির সামান্য জ্ঞানও জন্মে, তবে তার বুদ্ধিমত্তা, অনুরাগ ও চেষ্টা অনুযায়ী হজের আসল রহস্য তার কাছে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে এবং প্রতিটি কার্য থেকে তিনি নির্ধারিত ফল লাভ করতে সক্ষম হবেন। এটাই ইবাদতের প্রাণ। আর এই অর্থ বুঝতে পারলে প্রত্যেক কার্যের বাহ্য আকৃতি থেকে এটার আধ্যাত্মিক গূঢ় মর্মের দিকে তিনি অধিকতর অগ্রসর হতে পারবেন।