সময় বুঝে উত্তম কাজ

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২১     আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২১

সৈয়দ শাহাদাত হুসাইন

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রেরিত নবী-রাসুলদের মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দান করেছেন। এর মধ্যে সময়জ্ঞান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সময়, মুহূর্ত, দিন, রাত, ঘণ্টা, মাস, বছর নিয়ে রয়েছে ৩৬৫টি আয়াত, যা 'মিরাকল অব কোরআন'। আমি অধম, যেহেতেু পবিত্র কোরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াত একত্রীকরণের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক সমাধান নিয়ে গবেষণা করি, তাই দিন-রাত, সময়-ঘণ্টা, মুহূর্ত, শুভ-অশুভ দিন ও সময়, মুহূর্ত সংক্রান্ত আয়াত একত্রিত করেছি। মহান আল্লাহতাআলা আমাদের দুটি সময়জ্ঞান দান করেছেন- একটি সূর্যের মাধ্যমে, অন্যটি চন্দ্রের মাধ্যমে। সূর্য বছর ৩৬৫ দিন তথা ১২ মাসে এক বছর। আর চান্দ্র বছর ৩৫৪ দিনে, কিন্তু ১২ মাস। এই দুটি ক্যালেন্ডার মানুষের জন্য অতীব জরুরি। তা ছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ক্যালেন্ডার তৈরি হয়েছে, যা মতামতের ভিত্তিতে। তবে সবার জন্য জরুরি হচ্ছে আল্লাহপাকের নিদর্শন সূর্য ও চন্দ্র অনুসারে যে পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার রয়েছে, তা অনুসরণ করা।

সূর্য ও চন্দ্র মহান রাব্বুল আলামিনের নিদর্শনাবলির অন্যতম। সূর্য ও চন্দ্রের দিন-রাতগুলোয় রয়েছে মানুষের জন্য শিক্ষণীয় উপকরণ। সপ্তাহের সাতটি দিন ক্রমান্বয়ে ঘূর্ণায়মান। ২৪ ঘণ্টায় এক দিন, যার প্রতিটি ঘণ্টায় একটি সেতারা চলমান। সাতটি সেতারা ২৪ ঘণ্টায় ঘূর্ণায়মান। সাতটি সেতারা হচ্ছে সামছ?, কামর, মিরিখ, আতরাদ, মোস্তারি, জোহরা এবং জোহল। এই সাতটি সেতারার কোনোটি উত্তম, কোনোটি ভালো, কোনোটি মন্দ, কোনোটি অতি খারাপ। ফলে সাত ঘণ্টায় রয়েছে সাত ধরনের ভালো ও মন্দ প্রভাব। এভাবে সাত ধরনের প্রভাব ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যমান। এসব বিষয়ে তাফসিরগুলোয় রয়েছে নানা তথ্য।

পবিত্র কোরআনেও ভালো, মন্দ, সময় ও দিনের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে; তেমনি কোনো একটি দিনকে চরম অশুভ দিন বলে উল্লেখ রয়েছে। সাত দিনের যে নাম রয়েছে, তার মধ্যে একটি দিনের নাম ধ্বংসের দিন। কাফেরদের মৃত্যু হবে কুফরি শ্বাস পরিত্যাগের মাধ্যমে। আবার এমনও সময় রয়েছে, যে সময় সন্তান মায়ের রেহেমে প্রবেশ করলে কাফের অবস্থায় জন্ম নেবে। অর্থাৎ প্রথমত পিতামাতার অবাধ্য হবে, পরে স্রষ্টার অবাধ্য হবে। চান্দ্র মাসের মধ্যবর্তী রাত হচ্ছে পূর্ণিমার রাত। নেয়ামত পূর্ণ এ রাতে মহান স্রষ্টা নিকটবর্তী আসমানে আসন গ্রহণ করেন এবং তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রহমত দান করেন। বাবা আদম ও মা হাওয়া সন্তান না জন্মানোর জন্য আইয়াম বীযের রোজা পালন করতেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, মঙ্গলবারে এমন একটি সময় রয়েছে, ওই সময়ে শরীরের কোথাও কাটা গেলে রক্ত বন্ধ করা যাবে না। দোয়া কবুলের জন্য রয়েছে উনিশটি সময়জ্ঞান, যা না জানলে দোয়া কবুল হবে না। কখন দোয়া কবুল হয় তার ইশারা করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তাই এসব তথ্য জেনে আল্লাহর নেয়ামত লাভে সবাইকে প্রজ্ঞাবান আহলে জিকিরদের শরণাপন্ন হতে হবে। সবাইকে সময়জ্ঞান অর্জন করে উত্তম সময়ে উত্তম কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সময়কে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমরা সময়কে গালি দিও না, কেননা সময়ের নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন মহান আল্লাহতাআলা' (সূত্র : সহিহ মুসলিম : ৬০০৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, 'আল্লাহতাআলা বলেছেন, আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। কারণ, সে সময়কে গালি দেয়, অথচ আমিই হচ্ছি সময়। আমি আল্লাহ রাত-দিনকে পরিবর্তন করি' (সূত্র :সহিহ বোখারি, হাদিস নং ৪৭২৬)। সময়কে গালি না দিয়ে বরং ভালো সময় ও বুদ্ধিমান সময় বা জকি ছাআত চিনে উত্তম সময়ে উত্তম কাজ করা উচিত। আসুন, নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি- হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে মন্দ দিন থেকে, মন্দ রাত থেকে, মন্দ মুহূর্ত থেকে, মন্দ সঙ্গীর কাছ থেকে এবং শেষ বাসস্থানের মন্দ প্রতিবেশী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ! আমাদের সময়জ্ঞান দান করুন, প্রজ্ঞা নাজিল করুন, আমাদের তকদিরে ইমান লিখে দিন, আপনার ইচ্ছাতে নিজেকে সমর্পণ করতে তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি যাদের দুনিয়া দান করেন, আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই, হে মহান! আমাদের দুনিয়ামুক্ত হতে ও জহুদ অবলম্বনে সহযোগিতা করুন।

চেয়ারম্যান, তাসাউফ ফাউন্ডেশন