প্রেমের গল্প

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮      

প্রেমের গল্প

হুমায়ূন আহমেদ-[১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮-১৯ জুলাই ২০১২]

বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয়তম ও আলোচিত বাঙালি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ।

নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। সত্তর দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। 'শঙ্খনীল কারাগার' ও 'নন্দিত নরকে' খ্যাত হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে সাহিত্য সমালোচকরা বলছেন, বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে গল্প-উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ এক বিস্ময়কর নাম, এক জাদুমাখা নাম। তিনি জানেন কীভাবে গল্প লিখতে হয়, কীভাবে গল্পকে গল্প করে তুলতে হয়। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা ছোটগল্পে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন অসাধারণ সব ছোটগল্প দিয়ে। সাহিত্য সমালোচকরা হুমায়ূন আহমেদের নানা সীমাবদ্ধতার কথা বললেও তার ছোটগল্প নিয়ে কোনো সংশয় নেই তাদের। শুধু কি ছোটগল্প? উপন্যাসের পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ নাটক, শিশুতোষ সাহিত্য, রম্য, ফিকশন, অতিপ্রাকৃত রচনা, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ, চলচ্চিত্র-সাহিত্যের সব শাখায়ই স্বচ্ছন্দ বিচরণ করেছেন এবং নিজের মুনশিয়ানাও দেখিয়েছেন।

হুমায়ূন আহমেদের গদ্যের সরল ভঙ্গি পাঠককে মুগ্ধ করে। পাঠকের সঙ্গে সহজবোধ্য ভাষায় তিনি যোগাযোগ গড়ে তোলেন। এই লেখক গল্প লেখা কিংবা বলার সময় একটা পদ্ধতি অনুসরণ করেন, যা গল্পের পাঠককে বাধ্য করে তার সঙ্গে হেঁটে যেতে। আর একজন পাঠক যখন লেখকের সঙ্গে তার রচনা পড়ে হাঁটতে থাকেন, তখনই প্রকাশিত হয় লেখকের সার্থকতা। হুমায়ূন আহমেদ তার গল্পের ভেতর যে মুনশিয়ানা দেখান বরাবরই সেটা হলো, গল্পের চমকপ্রদ অংশ তিনি অনুচ্ছেদের শেষে বলেন। আর একগুচ্ছ চমক রহস্যের মতো করে জমাতে থাকেন, গল্পের শেষ দিকে বলবেন বলে। এতে পাঠকের পুরো গল্পটি পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। হুমায়ূন আহমেদ তার গল্পের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চমকের প্রবণতা রাখেন, পাঠক একবার তার লেখা পড়া শুরু করলে তার পক্ষে লেখা শেষ না করে ওঠা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন ঘটনা পাঠককে শোনাতে চান, যা এর আগে পাঠক শোনেনি বা এমন ঘটনার সঙ্গে পাঠকের পরিচয় নেই। জীবনের নানা ঘটনাকে বরাবরই ব্যঙ্গাত্মক রূপে প্রকাশ করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন, যেখানে প্রাধান্য লাভ করেছে হাস্যরসময় বর্ণনাভঙ্গি। এই অন্যতম প্রবণতার কারণে বাংলাদেশের ছোটগল্পের ভুবনে তিনি সফলমাত্রার গল্প যোগ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদকে তারা বলছেন, জীবনকে তিনি দেখেছেন সহজ ও প্রত্যক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে। জীবনের নানা ঘটনাকে, অভিজ্ঞতাকে তিনি এমন নিপুণতার সঙ্গে তার গল্পে বর্ণনা করেছেন যে, পাঠকের কাছে তা অতি পরিচিত প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনা বলে মনে হয়। মধ্যবিত্তের পরিবার কাঠামোর মধ্যে ঘটতে থাকা পিতার শাসন, মায়ের আদর, বোনের স্নেহ, মামার পাগলামি, ফুপির মৃত্যু, বাবার অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার জন্য নতুন পোশাক পরতে না পারার দুঃখ, ছোট বোনের মৃত্যু, বিয়ের দিন বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং শৈশব-কৈশোর-যৌবনের দিনগুলোকে হুমায়ূন আহমেদ তার গল্পে সহজভাবে চিত্রিত করতে পেরেছেন।

প্রশ্ন
১. হুমায়ূন আহমেদের প্রথম গল্প সংকলনের নাম কী?
২. কোন প্রকাশনী থেকে কত সালে প্রকাশিত হয় গ্রন্থটি?
৩. 'প্রেমের গল্প' বইটিতে কয়টি গল্প স্থান পেয়েছে, প্রকাশ সাল কত?

কালের খেয়া কুইজ-৬৫ এর বিজয়ী
রাশেদা আনোয়ার
উত্তর বাড্ডা, ঢাকা

শিহাব সোবহান
রাজাবাজার, ঢাকা

রাজিব হাসান
ধামরাই, সাভার

কালের খেয়া কুইজ-৬৫ এর উত্তর
১। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেপাই টেলরের গুলিতে মারা যায়।
২। বৃটিশ শাসনামল।
৩। নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী।

নিয়ম
কালের খেয়ার পাঠক কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন আগামী সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়।

তিন বিজয়ী পাবেন পুরস্কার।