নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথের গানে পথ ও পথিক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮      

আফসার আহমদ

-গত সংখ্যার পর
রবীন্দ্রনাথ সত্তার গভীরে পথ ও পথিকের অদ্বৈত রূপটি অনুধাবন করেছেন ঠিকই, কিন্তু তার পরেও পথের শেষে পৌঁছাতে পারবেন কি-না, সেই সংশয়ে থেকেছেন। তবু থেমে থাকেননি। 'জয় অজানার জয়' বলে এই সংশয়ের ভেতরে চিত্তকে সুদৃঢ় করেছেন। তবে অন্যদের থেকে তিনি স্বতন্ত্র হন এ জন্য যে, তিনি বরণ করে নিয়েছেন পথচলার আনন্দ। আর তাই তো তিনি গাইতে পেরেছেন 'আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ/ খেলে যায় রৌদ্রছায়া, বর্ষা আসে বসন্ত।' এই আনন্দের পথেই 'পথিকপরান'কে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই পথিকপরান যে কবি স্বয়ং, তা আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না। পথিকপরান সেই পথেই যেতে চান, যে পথে 'বিকেল বেলার জুঁই' চলে গেছে। যে পথে 'সন্ধ্যামেঘের সোনা' গেছে চলে। সেই পথে 'অন্ধকারে সন্ধ্যাযূথীর স্বপনময়ী ছায়া/ উঠবে ফুটে তারার মতো কায়াবিহীন মায়া।' এমন অনেক "গানে রবীন্দ্রনাথ নিজেকে 'পান্থজন', 'পথিকজন', 'পথিকপরান' বা শুধু 'পথিক' বলেছেন। সাধুসন্তরা, আউল-বাউলরা, সুফী-দরবেশরা, মরমিয়া কবিরা নিজেদেরকে চরম প্রেমের করুণ রঙিন অথচ প্রাণান্ত-কঠিন পথের পথিক বলে জেনেছেন বহুকাল যাবৎ।" (আবু সয়ীদ আইয়ুব) কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে ঈশ্বরকেও 'পান্থ্থ বলেছেন, যা অন্য কোনো কবি বা সাধক বলেননি। ঈশ্বর কেন 'পান্থ' রবীন্দ্রনাথের গানে? আমরা মরমি কবিদের গানে দেখেছি 'পান্থ' বা 'পথিক' সব সময় পথের কষ্ট স্বীকার করেন বা মেনে নেন পরমকে পাওয়ার আশায়। কারণ পথের শেষে যে সত্যসুন্দর ঈশ্বর বিরাজমান, তাঁকে পাওয়ার জন্যই তো পান্থজনের সাধনা। তাই তো পান্থজনের পথে পথে ছুটে চলা। কিন্তু ঈশ্বর তো স্বয়ংসম্পূর্ণ তবে তিনি 'পান্থ' বা 'পথিক' হবেন কেন? কিসের টানে এবং কেন তিনি পথের কষ্ট স্বীকার করবেন? রবীন্দ্রনাথের একটি গানে আছে-

পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে,

পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া।

যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে

তারি কণ্ঠে তোমারি গান গাওয়া

বাংলা শব্দকোষে 'পান্থ্থ' শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো পথভ্রমণকারী, পথিক। আবার 'পান্থজন' হলো 'পথের মানুষ', মানে 'পথিক'। তবে কি এই 'পান্থ' পথচলার সঙ্গী? আসলে তা নয়। প্রেম, ভালোবাসা, বিশ্বাস, নির্ভরতার স্থল এই 'পান্থ' মূলত কবির পরমেশ্বর। তাহলে পরমেশ্বর কেন কষ্ট করতে পথে নামবেন? ঈশ্বর তো সবখানে থাকেন, সর্বত্র বিরাজমান, সচল। তাই পরমেশ্বর একই সঙ্গে সর্বত্র বিরাজমান। এই সর্বত্র বিরাজমান, ব্যাপ্ত ও গতিমান সত্যকে 'পান্থ' বলেছেন কবি। তিনি বলেন- 'পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে,/ পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া।/ যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে/ তারি কণ্ঠে তোমারি গান গাওয়া' এবং 'পথিকচিত্তে তোমার তরী বাওয়া'। এই গানটিতে কবি নিজেকেই 'পান্থজন' ও 'পথিক' নামে আভাসিত করেছেন। এই পান্থ এবং পান্থজন পরস্পর অভেদাত্মক হয়ে ওঠেন। উপনিষদের শিক্ষার আলোকে কবি বিশ্বজগতের গতিশীল ধারায় সর্বত্র বিরাজমান ও সচল সত্তারূপে ঈশ্বরের আরেকটি গুণবাচক নাম হিসেবে 'পান্থ' শব্দকে উপযুক্ত বিবেচনা করেছেন। উপনিষদে আছে, বিশ্বচরাচর বিশ্বস্রষ্টার শরীর। তিনি বিশ্বপ্রকৃতিতে বিরাজিত ও পরিব্যাপ্ত। পৃথিবীর যা কিছু আছে তার সবটাই ঈশ্বর তাঁর ছায়ায় আবৃত করে রেখেছেন। 'পান্থ তুমি পান্থজনের সখা হে' গানটিতে দেখি পরমেশ্বররূপী 'পান্থ' একই সঙ্গে সখা ও সহযাত্রী। এই পান্থ সব সময় পথিকের সঙ্গে থাকেন। দুস্তর সাধনপথের সঙ্গীরূপে। রবীন্দ্রনাথের গানের সুনিপুণ ব্যাখ্যাতা আবু সয়ীদ আইয়ুব বলেছেন, 'ভক্ত যে পথে চলেন, ভগবানও সেই দিকেই চলেছেন।' এই পথ ও পথিক প্রসঙ্গের ভেতর দিয়ে কবি এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন যে, স্রষ্টার পরিপূর্ণতার জন্য সৃষ্টির প্রয়োজন আছে। আর এভাবেই ঈশ্বর ও মানুষ রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে পরস্পর পরিপূরক হয়ে উঠেছেন। তাই তো এক সত্তা আরেক সত্তার অভাবে অপূর্ণ। অপূর্ণ ছুটে চলে পরিপূর্ণ ঈশ্বরের পানে। যেমন নদী শুধু ছুটে চলে সমুদ্রের পানে। এ জন্যই রবীন্দ্রনাথের গানে পথ ও পথিক একাত্ম হয়ে পরম পান্থের অভেদরূপ হয়ে উঠেছে। কবি আরেকটি গানে ঈশ্বর ও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেছেন-

তাই তোমার আনন্দ আমার 'পর

তুমি তাই এসেছ নীচে-

আমায় নইলে, ত্রিভুবনেশ্বর,

তোমার প্রেম হত যে মিছে

কবির এই দীপ্ত উচ্চারণ ঈশ্বর ও মানুষের পরস্পরের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। বাংলাদেশের মারফতি, মুর্শিদি, বিচ্ছেদ ও গুরুবাদী নানা বাংলা গানে ভগবানের সঙ্গে ভক্তের অচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। একটি ভাববাদী লোকগানে অন্তরের গভীর বিশ্বাস, আস্থা ও ভালোবাসার স্পর্ধায় কবি উচ্চারণ করেছেন 'আয়াত কোরান পড়ে শুধু নাম ঠিকানা জানতে পাই/ মানুষ ছাড়া আল্লাহর কোন দলিল নাই।' এই কথার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'আমায় নইলে, ত্রিভুবনেশ্বর, তোমার প্রেম হত যে মিছে' উচ্চারণের শিল্পগত প্রভেদ থাকলেও মর্মগত কোনো প্রভেদ নেই। সাধন পথে পথ ও পথিক অভেদাত্মক বলেই দীর্ঘ সাধনার কষ্টকরুণ যাত্রাপথে ভক্তের সঙ্গে ভগবান স্বয়ং 'পান্থ' বা 'পান্থসখা' হয়ে ওঠেন। ভক্তের সঙ্গে মিলনের জন্য এই পান্থ পথে নামেন। একটি গানে আছে- 'আমার মিলন লাগি তুমি আসছ কবে থেকে!/ তোমার চন্দ্র সূর্য তোমায় রাখবে কোথায় ঢেকে?' ভক্তের 'মিলন লাগি' পথে নেমেছেন বলেই তো ঈশ্বর পান্থ। কবি আপন অন্তরে টের পান তাঁর আগমনী সুর এবং আত্মহারা কবি গেয়ে ওঠেন- 'ওগো পথিক, আজকে আমার সকল পরান ব্যেপে/ থেকে থেকে হরষ যেন উঠেছে কেঁপে কেঁপে।' পথিক তার পরম পান্থের জন্য কবে পথে বের হয়েছেন, তা জানেন না। উপরন্তু পথের ঠিকানা না জেনেই কবি পথ চলেন কেবল চলার আনন্দের জন্য। কবিচিত্ত গেয়ে ওঠে- 'কতই নামে ডেকেছি যে, কতই ছবি এঁকেছি যে,/ কোন আনন্দে চলেছি, তার ঠিকানা না পেয়ে।'

পথ ও পথিক রবীন্দ্রনাথের আরেকটি গানে এসেছে আর্ত প্রার্থনার উচ্চারণ হয়ে- 'পথে যেতে ডেকেছিলে মোরে।' এই গানটি পূজা পর্যায়ের এবং প্রার্থনা উপপর্যায়ের। এই গানটিতে পথিকের মনে ভয় ও আশা যুগপৎ প্রকাশিত। গানে বর্ণিত পথিককে যিনি পথে ডেকে নেন, তিনিও পথেই থাকেন এবং একই সঙ্গে পথ চলেন। কিন্তু পথ চলতে চলতে, পিছিয়ে পড়তে পড়তে পথিকের শঙ্কা জাগে মনে- 'যাব যে কী করে!' কারণ পথের পুরোটাই ঘন কালো অন্ধকারে ছাওয়া, পথরেখা চিহ্নবিহীন অন্ধকারে মিশে গেছে। পথিক তবে প্রার্থনা করে কার কাছে এই বলে যে 'সাড়া দাও সাড়া দাও আঁধারের ঘোরে'। কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া নেই। দিকচক্রবাল নৈঃশব্দ্য ও আঁধারে ঢাকা। অসীম নৈরাশ্যে ভরে যায় পথিকের সমস্ত মন। অন্ধকারে পথিক মনকে বোঝায় যে ঘুরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত তার কাছেই হয়তো চলেছি, কিন্তু দেখা যায় বিপরীত হয়েছে। অর্থাৎ অন্ধকারে তাঁর সঙ্গে (পরম পান্থ) পথিকের দূরত্ব গেছে বেড়ে। অন্ধকার হয়েছে গাঢ়তর। কূল-কিনারাহীন নৈরাশ্যের তীব্র ভয় জাগে পথিকের মনে সেই অন্ধকারে এই ভেবে- 'মনে করি আছ কাছে, তবু ভয় হয়, পাছে/ আমি আছি তুমি নাই কালি নিশিভোরে' এই প্রবল নৈরাশ্য ও ভয়ের ভেতর কবি সেই পরম পথিকের অভয় কণ্ঠস্বর শুনতে চান এবং তাঁরই কাছে নির্ভরতার আশ্রয় খোঁজেন। এত দুর্গম পথের শেষে পৌঁছানোর জন্য আশা-নিরাশার দ্বন্দ্ব-দোলায় তিরতির কাঁপে কবিপথিকের অন্তর। পথের সাথীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন কবি সেই অন্ধকার পথযাত্রায়। কারণ কবির অন্তরজুড়ে এই বোধটি জেগে থাকে, কেউ একজন এই দূর্গম পথচলায় তার সঙ্গে রয়েছেন। এই কাছের জনই কবির নির্ভরতার প্রতীক পান্থ।

রবীন্দ্রনাথের গানে যে পথের কথা বলা হয়েছে, সে পথ কষ্টের ভেতর দিয়ে মঙ্গলের দিকে, কল্যাণের দিকে, সুন্দরের দিকে অভিযাত্রা। মানব জাতি এগিয়ে চলেছে মঙ্গলময়তার দিকে- রবীন্দ্রনাথের গানের পথের এমন ব্যাখ্যাও কেউ করেছেন। পরমেশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে রবীন্দ্রনাথের এই মঙ্গলময়তার দিকে অভিযাত্রার সত্য ও সুন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমার বিবেচনায় রবীন্দ্রনাথের গানে পথ ও পথিক নিয়ে যে ভাবনা উচ্চকিত, তার পশ্চাতে রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর-ভাবনার প্রেমময় মানবিক রূপটি সন্ধান করা যায়।

রবীন্দ্রনাথের পথবিষয়ক বহু গানেই দেখা যায় জীবন ও ধর্ম সম্পর্কে কবির ব্যক্তিগত বিশ্বাস একটি বিশ্বানুভূতির জন্ম দিয়েছে। কবির 'পথ-চাওয়াতেই আনন্দ'- এই বোধ থেকেই পরমেশ্বরের পরশ পথের কোথায় কখন পাবেন, সেই আশায় বুক বেঁধে পথ চলেন। চলতে চলতে 'কী অচেনা কুসুমের গন্ধে, কী গোপন আপন আনন্দে,/ কোন পথিকের কোন্‌ গানে' তাঁরই স্পর্শ ও উপস্থিতি অনুভব করেন কবি। কিন্তু হঠাৎ 'দারুণ দুঃখতাপে' সকল ভুবন যখন কেঁপে ওঠে তখন সকল পথের চিহ্ন যায় ঘুচে। পথ যদি রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাধনার দুস্তর পথ হয় তবে এই কাব্য সাধনার শেষে তিনি পরম সুন্দর পান্থকেই অন্বেষণ করেন, যিনি কবির বক্ষলগ্ন হয়ে অন্তরেই বসবাস করেন। পথ যদি তাঁর ধর্মসাধনার অন্তবিহীন অভিযাত্রা হয় তবে পথের শেষে কী আছে, তা না জেনেও পথচলার আনন্দে প্রেমের ভেতর দিয়ে বিশ্বরূপের মধ্যে পরমেশ্বরকে অন্বেষণ করেন।

রবীন্দ্রনাথের গানে পথের গুরুত্ব আছে বলেই পথবিষয়ক গানগুলোকে তিনি পথ উপপর্যায় স্তরে বিভাজন করেছেন। পথ ও পথিক ভাবনার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ মরমিয়া কবি। পারস্যের কবি হাফিজের একটি গজলে আছে 'পথিক যদি পথ না চিনে পথের নায়ক তখন পথ চেনায়।' রবীন্দ্রনাথের গানে এই পথের নায়ক হলেন পান্থ। তবে রবীন্দ্রনাথের গানে দেখা যায় 'পান্থ' খুব সহজে পথ চেনায় না। দুর্গম কণ্টকাকীর্ণ পথ পার হতে হতে পথ চিনে নেয় পথিক। তার সহযাত্রী থাকেন পান্থ। আর এ জন্যই রবীন্দ্রনাথের গানে তিনি পান্থসখা। রবীন্দ্রনাথ আরেকটি গানে বলেছেন, সেই পরম পথিকের আলোকশিখা থেকে আগুন নিয়ে কবিপথিকের হাতে ধরা প্রদীপ জ্বালানোর পরেই অন্ধকার দূর হবে। সেই আলোতে মিলন হবে দুই পথিক- ভক্ত ও ভগবানের। পথ হয়ে উঠবে পান্থ ও পান্থজনের মিলনস্থল।

রবীন্দ্রনাথ যে পথের সন্ধান করেছেন, তার শেষ কোথায়? পথের শেষে কী বা আছে? রবীন্দ্রনাথ নৈরাশ্যের ভেতরে আবদ্ধ থাকেননি। পথের রিক্ততার মধ্যেও পরম সুন্দরের উপস্থিতি অনুভব করেছেন। পথ ও পথিক প্রসঙ্গে রবীন্দ্র-মানসের অভেদ ব্যাকুলতার যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তাতে দেখা যায় পরমেশ্বরকে পাওয়ার পথ যেমন জটিল তেমনি সংশয় ও নৈরাশ্যে পূর্ণ। মরীচিকা অন্বেষণের মতো মনে হয় সবকিছু। পথ দীর্ঘতর ও দুর্গম মনে হয়। কবির মনে সন্দেহ দেখা দেয়, ঠিক পথে না ভুল পথে চলেছেন তিনি? কবির মনে ভয় গাঢ়তর হয়। পথ ও পথিক বিষয়ের বহু গানেই আমরা রবীন্দ্র-মানসের ব্যাকুল ও অস্থির দিকটির পরিচয় যেমন পাই, তেমনি সব ভয় তুচ্ছ করে বিপুল আনন্দে সঠিক পথের সন্ধানে ক্রমাগত ছুটে চলার পরিচয়ও পাই। এই পথের শেষ কোথায়? কবি বলেন-

পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে।

এত কামনা, এত সাধনা কোথায় মেশে।

আজ ভাবি মনে মনে, মরীচিকা অন্বেষণে হায়

বুঝি তৃষ্ণার শেষ নেই। মনে ভয় লাগে সেই-

হাল-ভাঙা পাল-ছেঁড়া ব্যথা চলেছে নিরুদ্দেশে

রবীন্দ্রনাথের এই গানের আলোকে আমরা বলতে পারি পথের তৃষ্ণা এক সময় মানুষকে ঠিক পথে পৌঁছে দেবে নিশ্চয়। রবীন্দ্রনাথের পথ ও পথিক অদ্বৈতরূপে মিলে যেতে চায় পথের শেষে অপেক্ষমাণ পরম পান্থের সঙ্গে। পথের শেষে কী আছে, কে আছেন তার জন্য ব্যাকুল আশা বুকে নিয়ে কবি পথ চেয়ে থাকেন। কেবল রবীন্দ্রনাথই দেখতে পারেন এমন নৈরাশ্যের ভেতরে জগতের সব সৌন্দর্য ও পরম সুন্দরকে গভীর বিশ্বাসে। কারণ তাঁর কাছে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মতোই পথ ও পথিক একই পরম সত্তার দুই ভিন্ন রূপ। সেই পরম সুন্দরের জন্য অপেক্ষা করেন কবি-

পথ চেয়ে যে কেটে গেল কত দিনে রাতে

আজ তোমায় আমায় প্রাণের বঁধু মিলবো গো একসাথে।