গল্প

তিথির ডানা

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮      

রুমা মোদক

১.

সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মাখা সকালে পূর্বদিকে জেগে ওঠা রোদটায় যেন দুপুরের দিকে গড়াবার কোনো তাড়া নেই। অচল বুড়োর মতো আলস্য। অথচ দুপুরের খরখরে রোদটা ঠিক দুপুরের ভাতের প্লেটের মতোই দ্রুত ফুরিয়ে বিকেলে চলে যায়। তারপর সন্ধ্যা ছুঁয়ে চলে যায় নিসস্তব্ধ রাতের দিকে। তিথি প্রতিদিন প্রার্থনা করে- সকালটা খুব দ্রুত দুপুর হোক। কিন্তু দুপুরটা কোনোদিন রাতের দিকে না যাক...। কিন্তু এই নিয়মের অনিয়ম হয় না একদিনও। ঠিক দেরি করে করে তিথিকে অপেক্ষার শেষ সীমানায় পৌঁছেই তবে দুপুর নামে। আর দুপুরটা ঠিক বিকেলের তীব্র তাড়ায় দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

দুপুরে রাস্তার ও পাশের শ্রী রঘুনাথ ফার্মেসিতে যখন ঘড়ির ছোট-বড় কাঁটা দুটো এক সাথে লাইনে দাঁড়ায়, তখন বারোটা বাজে। আর তখনই ওরা আসে। চুপিচুপি। তিথি ঠিক এই ক্ষণটির অপেক্ষায় থাকে প্রতিদিন। কখন ওরা আসবে... আর ওকে নিয়ে যাবে সেখানে, যেখানে তিথির জন্য অপেক্ষা করে থাকে এক রাজপুত্তুর। তিন চাকার সাইকেল নিয়ে... বল নিয়ে...।

পূর্বাকাশের সূর্যটার আঁচ গায়ে হুল না ফোটানোর আগেই এই স্বপ্নপুরীতে কাটানোর অপেক্ষাতেই দিন শুরু হয় তিথির। তিথি কাঠপোড়া কয়লা হাতে দাঁত মেজে কুলকুচা করে মাটিতে চাটাই বিছিয়ে পড়তে বসে। মা এসে আধবাটি তেলমাখা মুড়ি সামনে রেখে যায় নিয়মমতো। নিয়মমতো পাশে জলচৌকিতে বসে থাকা বাবা আর দাদির জন্য মুড়ির সাথে আসে আখের গুড় আর তেজপাতা জ্বাল দেয়া চা। তিথি ছোট মানুষ বলে ভাগে চা জোট না। বাতাসে উড়তে থাকা গুড় তেজপাতা আর চা পাতার জ্বাল দেয়া গন্ধের সাথে সাথে তেলেমাখা মুড়িটা চেটেপুটে খেয়ে নেয় তিথি। গন্ধ নয়; ঠিক চা-টাই পেটে যায়। চা না পাওয়ার আফসোসটা মোটেই থাকে না।

রাস্তার পাশে শ্রী রঘুনাথ ফার্মেসিতে দশটা বাজার মিনিট দশেক আগেই টুংটাং সাইকেল বাজিয়ে বাবা বের হয়ে যায়। বাবার নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। তিথি শুনেছে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আগের রাতে মেইল ট্রেনে ঢাকা চলে গিয়েছিল বাড়ির সবার অজান্তে। আর ফিরে বাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিল তিথি ঔষধালয়ে। মা বলে, পাঞ্জাবিরা শহরে ঢুকে এই দোকানটাতে আগুন দিয়েই এই শহরে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেছিল। যুদ্ধের সময় পুড়িয়ে দেয়া ওষুধের দোকানটায় আজও ঠিকমতো মালপত্র তুলতে পারেনি বাবা টাকার অভাবে। তিথি ঔষধালয় আসলে এখন এক আড্ডাখানা, বাবার সাথে যুদ্ধে যাওয়া-যুদ্ধ ফেরত সঙ্গীদের সেই ৯ মাসের স্মৃতিচারণ, আশা আর হতাশার জটিল হিসাব না মেলা নিরুপায় অফুরন্ত অবসর কাটানোর সময়। তাদের স্মৃতিতে ভেসে থাকা স্বপ্নের ক্রমাগত মৃত্যু তাদের স্মৃতিচারণে হতাশার কালো রঙ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। তারা বিষণ্ণ হয় আবার আশা খোঁজে। প্রধানমন্ত্রী বসে নেই। কমনওয়েলথ থেকে ওআইসি কোথায় না যাচ্ছেন তিনি! নিশ্চয়ই এই দুঃসময় দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এভাবে প্রতিদিন আশায় বাড়ি ফিরে পরদিন আবার আসে হতাশা সঙ্গী করে। এত কিছু বোঝে না তিথি। দোকানের পেছনে বসে হঠাৎ দু'একটা বাক্য কানে যায় কেবল। কথাগুলো অর্থহীন ঠেকলেও এর গুরুত্বটা আঁচ করতে পারে।

বাবা বের হয়ে গেলেই বাড়িটাতে এক নিস্তব্ধ দুর্ভার ধীরগতির বেলা নামে। যেন এই বেলাটার কোনো কাজ নেই; কোনো তাড়া নেই। জীবনের স্পন্দন নেই... আশা নেই, ভবিষ্যৎ নেই। বারান্দায় চাটাই বিছিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ে দাদি; যেন জীবনের আর কোনো কাজ বাকি নেই। আর মা সাদা কাপড়ে সুই দিয়ে সবুজ সুতার দিগন্তে লাল সুতায় আঁকড়ে থাকে গোলকের নকশা। আর বাকি সাদা কাপড়টুকুতে বন্দুক ওপরে তোলা যে দুটি মানুষ, তাতে লেপ্টে থাকে খানিকটা বাবা আর খানিকটা চাচা মিয়ার অবয়ব। দু'জনের চোখ দিয়েই বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা খালটির মতো ক্ষীণ পানির স্রোত দেখে তিথি। অথচ পেছনে সবুজ মাঠ আর আকাশে লাল গোলকের সূর্যটা রেখে যেদিন ঠিক এভাবেই বাবা আর চাচা মিয়া উপরে টিনের চালহীন আগুনে পোড়া বাঁশের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে ছিল; সেদিন কোনো আশা ছিল না। সামনে দৃশ্যমান কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না। কিন্তু মা আর দাদির অশ্রুতে ছিল উচ্ছল আনন্দ। সেদিনের সেই অশ্রুর সাথে এই অশ্রুর আকাশ-পাতাল তফাত। তিথি টের পায়, মায়ের সুইয়ের ফোঁড়ে আঁকা অশ্রুকণা আর দাদির চোখ বেয়ে নামা অশ্রুকণা কোথায় যেন এক সমুদ্রের মোহনায় মিলে-মিশে যায়। বিষণ্ণ নিরানন্দে।

ওরা আসার আগ পর্যন্ত সময়টা বড় নিঃসঙ্গ দুর্বহ লাগে তিথির। কিচ্ছু করার নেই, কোথাও যাওয়ার নেই। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে মাসখানেক। চাচা মিয়ার প্রসঙ্গ তুলে আজেবাজে কথা বলেছে হেডস্যার। বাবা রেগেমেগে স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে তিথির। বাবার রাগটা যে ঠিক কার ওপর বুঝতে পারেনি তিথি। চাচা মিয়া, নাকি হেডস্যার? হিসাবটা বড় গোলমেলে লাগে তিথির। বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওঠার পাটিগণিতের মতো। মাত্রই না ক'টা বছর আগে বাবাকে আর চাচা মিয়াকে স্কুলে মিটিং করে ফুলের মালা দিয়ে আগুন ছড়ানো বক্তৃতা দিলেন হেডস্যার। এর মাঝে এমন কী ঘটল! চাচা মিয়া কই হারাল! হেডস্যার যা-তা বললেন, তিথির স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। বাড়িতে বাবা-মা, দাদি- সবার মুখে আধপেটা রুটি খাওয়া অতৃপ্ত রাতগুলোর মতো অন্ধকার ঝুলে থাকল... এমন অন্ধকার... কেউ জানে না কবে সরে আলোর দেখা মিলবে!

দুঃসহ বেলাটা পার করতে তিথি ছাপড়া ঘরের পাশে বসে ব্যাঙের ছাতা গোনে। বসতঘর লাগোয়া ছাপড়া ঘর আর বাঁশের বেড়ার বাউন্ডারির মাঝখানে এক টুকরো অপ্রশস্ত স্যাঁতসেঁতে মাটি। সেখানে সারি বাঁধা পিঁপড়েদের মাটি তোলা পাহাড়। উঁচু ঢিবি হয়ে থাকা মাটির স্তূপে ছোপ-ছোপ সবুজ শ্যাওলা। ঝিম মারা বেলাটায় কেমন বৃহৎ বিশাল পাহাড় হয়ে ওঠে সেগুলো, মাটির ভাঁজে ভাঁজে গহীন খাদ আর শ্যাওলার সবুজগুলো যেন সূর্যের তাপ গিলে খাওয়া আমাজানের জঙ্গল। পেয়ারা গাছটার নিচে ছড়ানো ছিটানো ব্যাঙের ছাতা... যেন স্বপ্নে দেখা কোনো অচেনা শহর!

দুপুরে রাস্তার ও পাশের শ্রী রঘুনাথ ফার্মেসিতে যখন ঘড়ির ছোট-বড় কাঁটা দুটো এক সাথে লাইনে দাঁড়ায়, তখন বারোটা বাজে। আর তখনই ওরা আসে। চুপিচুপি। মুহূর্তে তিথির দুর্বহ সময়জুড়ে উৎসের আতশ বাজি জ্বলে। পা টিপে টিপে মায়ের ভাঁড়ার থেকে এক মুঠো চাল নিয়ে এসে ছড়িয়ে দেয়... ওরা খেয়ে নেয়। তার পর তিথি সঙ্গী হয় ওদের...।

২.

রাজপুত্তুর হাতে নেয় ওকে...। তিন চাকার সাইকেলের পেছনে বসায়। তিথির মনে হয় যেন পঙ্খীরাজ ঘোড়া এক, তিথিকে নিয়ে উড়ে চলে রাজপুত্তুর ডালিমকুমার...। এক সময় দৌড়ে বলটাও নিয়ে আসে রাজপুত্তুর। তিথি ওর সাথে দৌড়ে হাঁপিয়ে যায়... ক্লান্ত বসে পড়ে। রাজপুত্তুর তিথিকে সাথে নিয়ে উঠে যায় দোতলার সিঁড়ি বেয়ে। টেবিলে পাটপাতার শাক, মাগুর মাছের ঝোল...। রাজপুত্তুরের বাবাটাও ঠিক রাজার মতো। গনগনে গলায় তিথির দিকে তর্জনী তোলে। সে তর্জনী থেকে টপটপ পড়ে স্নেহ আর আশ্রয়, আহদ্মাদ আর নির্ভয়। জানতে চায় রাজপুত্তুরের কাছে- ও খাবে আমাদের সাথে? হো হো করে হাসে রাজা। ঘর ছেড়ে সে হাসির অমলিন রেশ যেন পথ-ঘাট-নদী-নালা পার হয়ে তিথিদের ঘরেও ঢুকে যায় দ্বিধাহীন। তিথির খুব খেতে ইচ্ছে করে। কতদিন মাছ দিয়ে ভাত খাওয়া হয় না! কেবল ডাল আর আলু, আলু আর পেঁপে; তাও এক বেলা। কিন্তু খাবে কী করে তিথি, যে ওদের সাথে ওদের মতোই ঢুকেছে বাসাটায়। মাগুর মাছের ঝোল আর পাট পাতার শাক দিয়ে ও ভাত খাবে কী করে?

৩.

ছাপরা ঘরটায় চৌকি বিছিয়ে থাকত চাচা মিয়া। গত কয় মাস সে নিখোঁজ। তার পর থেকেই ছাপড়া ঘরটার ভেতরে-বাইরের অপ্রশস্ত স্যাঁতসেঁতে মাটিটুকু ঘিরে যেন কোনো রহস্যময় অচেনা অন্ধকার। চাচা মিয়ার জন্য খুব মন খারাপ হয় তিথির। চাচা মিয়া ওকে রিকশা করে টিভি দেখতে নিয়ে যেত টাউন হলে। মুগ্ধ হয়ে দেখত তিথি... বাতাসে দুলছে পাকা ধানের শীষ। যেন স্বর্গ থেকে ভেসে আসছে গান- শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি...। একদিন বঙ্গবন্ধুর সাথে রাসেলকে দেখেছিল সে টিভির পর্দায়, জাপানের কিয়াতো শহর, বৌদ্ধ মন্দির। জলের নিচে মাছেদের সাথে খেলা। চাচা মিয়াটা কোথায় যে হারিয়ে গেল! তিথির আর টিভি দেখা হয় না।

গুড় দিয়ে রুটি খেতে ভীষণ কষ্ট হয় তিথিরও। তবু খেয়ে নেয়। বাবা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছেন কয়েকটা দিন কষ্ট করে রুটি খেতে। চালভর্তি জাহাজটা আমেরিকা ডুবিয়ে দিয়েছে বলেই না... নইলে তো তিন বেলাই ভাত খেতে পারত ওরা। অসুবিধে নেই, বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর এ মাথা-ও মাথা চালের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সকালে মুড়ি আর রাতে রুটি খাবার দুঃসহ দিন বেশি দিন থাকবে না। কথাগুলো শুনতে শুনতে তিথি কল্পনা করে, বঙ্গবন্ধু সিঁড়ি বেয়ে প্লেনে উঠছেন আর তার পিছু পিছু লাইন দিয়ে চালের বস্তা নিয়ে একদল লোক উঠে যাচ্ছে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে। সেই চাল দেশে এসে মায়ের হাতে জুঁই ফুলের মতো ভাত হবে। সেই ভাত খাবার কল্পনার সাথে সাথে কখন যে রুটি-গুড় ঠিক খেয়ে নিত, বুঝতেই পারত না তিথি।

কিন্তু খেতে পারত না চাচা মিয়া। একদম পারত না। একদিন রাগ করে পুরো রুটির থালা লাথি মেরে উল্টে পাগলের মতো চেঁচাতে থাকল- এ জন্য যুদ্ধ করছিলাম? এর জন্য? বাবারও কী হলো! কষে লাগাল চাচা মিয়ার গালে এক চড়। সেই যে চাচা মিয়া বর্ষার আকাশের মতো বিরতিহীন গর্জন করতে করতে ঘর থেকে বের হয়ে গেল! আর ফিরল না আজ অবধি। হেডস্যার বলেন, চাচা মিয়া নাকি ঢাকার রাস্তায় ছিনতাই করে। ছিনতাই কী? তিথি জানে না। তবে নিশ্চয় খুব খারাপ কাজ। চাচা মিয়ার যে কাজের জন্য তিথিকে স্কুল ছাড়তে হয়।

ছাপড়া ঘরের দাওয়ায় বসে বসে আজ ক্লান্ত তিথি। সাধের পাহাড়, ঘন ঝোপের অন্ত খুঁজে না পাওয়া প্রতীক্ষা আর শেষ হয় না। ঘড়ির কাঁটা দুটো বারোটার ঘর পার হয়ে আড়াআড়ি সমকোণে পৌঁছে গেলেও ওরা আসে না। অথচ কোনোদিন ভুল হয়নি ওদের সময়। কিন্তু আজ কী হলো!

হঠাৎ ছাপড়া ঘরের চালে ওদের বাক-বাকুম শোনা যায়। মিনিট পনেরোর অপেক্ষা যেন অনন্তকালের শ্রান্ত প্রহর বোধ হয়। ফলে ওদের আসার ক্ষণটাও দ্বিগুণ আনন্দে নিয়ন্ত্রণহীন করে ওকে। আত্মহারা তিথি বোধ হয় আজ একটু নিয়ন্ত্রণহীন হয়। বিড়ালের মতো শব্দহীন পদক্ষেপ, বাঘের মতো থপ থপ শব্দ করে ওদের জন্য রোজকার চাল আনতে গিয়ে ধরা খায় মায়ের হাতে। আর মা পেছন থেকে চুল ধরে টেনেহিচঁড়ে হিড় হিড় করে এনে কলতলায় পাঠায় আর বিড়বিড় করে... নিজেরার ভাত জোটে না, কবুতররে চাল দ্যায়, সাহস কত্তো মাইয়ার! বাপে জানে কড়া রইদে দাঁড়াইয়া রেশনের চাল তোলার কতখানি কষ্ট!

আজ আর ওদের সাথে যাওয়া হয় না তিথির। তিথি জানে, রাজপুত্তুর অপেক্ষা করবে ঠিক। কলতলায় নেমে তিথি দেখে ডানা ঝাপটে বিষণ্ণ করুণ মুখে কবুতরগুলো চলে যেতে যেতে ওর কানে কানে বলে যায়, তোমার কাছে আমাদের থাকতে দেবে? আমাদের যে আর যাবার জায়গা নেই...। বলেই অসীম আকাশে মিলিয়ে যায় তারা। তিথি বিস্ময়ে উত্তর দিতে ভুলে যায়, কী বলছে ওরা! কেন বলছে! তিথি আজও ওদের সাথে উড়তে চায় ডানা মেলে, যেতে চায় রাজপুত্তুরের কাছে। কিন্তু আশ্চর্য! আজ তো ওর ডানা গজায় না! ডানা গজায় না অন্যদিনের মতো!! কী হলো আজ?

৪.

সারারাত প্রায় নির্ঘুম অস্থিরতায় কাটে তিথির। কেন? কী হয়েছে? কিছুই বুঝতে পারে না সে। কিন্তু বুঝতে পারে কোথাও কিছু একটা ঘটছে; ঘটবে।

পরদিন ভোরে তিথির বাবার এক ব্যান্ড রেডিওটা একসুরে বলতে থাকে- আমি মেজর ডালিম বলছি...। তার পর একটু বেলায় এক গাড়িভর্তি পুলিশ নামে বাড়ির প্রবেশদ্বারে। হাতকড়া পরিয়ে বাবাকে ধাক্কা মেরে গাড়িতে তোলার আগে হ্যাঁচকা টান দেয় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিথিকে। ওদের বুট পরা ভারী পায়ের আওয়াজ, রক্তচক্ষুতে কাঁপতে থাকে তিথি কবুতরের মতো। তিথির বোধ হয় সেই রাজার সামনে, তার গনগনে কণ্ঠের সামনে কবতুর হয়েও কবুতরের মতো মোটেই কাঁপত না সে!

তিথি চিৎকার করে- আমি মায়ের কাছে যাব। আবর্জনার পোঁটলার মতো অবহেলায় ওরা তিথিকে ছুড়ে মারে তিথির মায়ের কোলে। ঘড়িতে তখন কাঁটা দুটো দাঁড়িয়েছে একই লাইনে; একটাকে ঢেকে আরেকটা। বারটা বাজে। আর সাদা কবুতর দুটো কোথা থেকে উড়ে এসে তিথির কানে কানে বলে- রাসেলও ঠিক এভাবে চিৎকার করে বলেছিল- মায়ের কাছে যাব।