আমাদের অপমানদগ্ধ দিনরাত্রি

প্রচ্ছদ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

শাহ্‌নাজ মুন্নী

['- আজ :অনেক নোংরা লেগে যাওয়া এক দিন : আত্মার অপমান (প্রত্যেকটা কুকুর বেড়ালকে আজ আমি কুর্নিশ করেছি)। -জীবনানন্দ দাশের নির্বাচিত দিনলিপি। ২৪. ৭. ৩১ তারিখে লেখা একটি পৃষ্ঠা।]

হায়, এই গভীর অন্ধকার অভিশপ্ত সময়ে আমাদের প্রতিটা দেহই কি বহন করছে না, একেকটা কুঁকড়ে যাওয়া, কুণ্ঠিত, অপমানিত, আহত আত্মা। অপমান সে তো এক অনন্ত দহনের নাম, তুষের আগুনের মতো মনের ভেতর ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা যন্ত্রণার নাম। যা কেবলই পোড়ায়, জ্বালায়, আর ধ্বংস করে দেয় আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা আর আত্মশক্তি। অপমানিত মানুষ হয়ে পড়ে ভীরু, কুণ্ঠিত, দমিত আর বঞ্চিত। এই সমাজের অপমান-দগ্ধ আত্মাদের সম্মিলিত ক্রন্দন আপনার, আমার কানে কি বাজছে না? বুঝতে পারছেন না, প্রতি দিনের এইসব অপমান আমাদের যাপিত জীবনকে তিল তিল করে বিষাক্ত করে তুলছে। মনের জমিনে জন্ম নিচ্ছে বিষবৃক্ষ। সেই বৃক্ষের পাতা, ফল, এমনকি ছায়াও বিষাক্ত। অপমানিত মানুষের মনে আশা-আনন্দ-ভালোবাসার জায়গা থাকে না। থাকে শুধু নৈরাশ্য-বেদনা-ব্যর্থতা-বঞ্চনা বোধ আর অবিশ্বাস। আর তারা, যারা মানুষকে অপমান করছেন, তাদের মনে বাসা বেঁধে আছে আছে অহংকার, ঔদ্ধত্য, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহংকার আর আত্মপরতা। দেখছেন না, আজ শিক্ষককে অপমান করছে ছাত্র, নির্দি্বধায় গায়ে হাত তুলছে, গালি-গালাজ করছে, নিগৃহীত করছে, এমনকি কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে- শিক্ষকের সেই অপমানের ভয়ানক কষ্ট আর বেদনাকে বহন করার তুল্য কোনো শব্দ কি আছে আমাদের শব্দভাণ্ডারে?

আবার, কোনো কোনো অধঃপতিত শিক্ষক যখন অপমান করে ছাত্রী-শিক্ষকের চিরকালীন মাধুর্যময় শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ককে, পিতৃতুল্য শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীর আতংকের নাম হয়ে যায়, যৌন লালসার কুৎসিত জিহ্বা যখন প্রসারিত হয় শিক্ষাঙ্গনেও, তখন অপমানে কার মাথা নত না হয়? আমাদের তথাকথিত শিক্ষা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বিশ্বাস, মানবিকতা আর সুকুমার চর্চার সুন্দর বাণীগুলো তখন কি অপমানে অভিমানে মুখ থুবড়ে পড়ে না? তখন কি এই পৃথিবীতে নেমে আসে না এক অদ্ভুত আতংকিত আঁধার? সভ্য-ভদ্র মুখোশের আড়ালে মানুষের ঘৃণ্য বিকৃত মুখগুলো যখন বেরিয়ে আসে, তখন মানবিকতা কি লজ্জায় অপমানে মুখ লুকায় না?

কত নোংরা আবর্জনা প্রতিদিন চলে যায় আমাদের হূৎপিণ্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে, আত্মবিশ্বাস আর আত্মশক্তি লুটিয়ে দিয়ে, হীনমন্যতাকে বাড়িয়ে দিয়ে, কষ্ট আর বেদনাকে উসকে দিয়ে- এ যেন এক চেইন রিঅ্যাকশন, অফিসে আমাকে সবার সামনে অপমান করছে অযোগ্য বস, অকথ্য ভাষায় বকাবকি করছে, মুখের ওপর ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে ফাইল, ঘরে ফিরে এসে আমি অপমান করছি আমার স্ত্রীকে, ছুড়ে মারছি চায়ের কাপ, প্রয়োগ করছি কটুবাক্য, গলা চেপে ধরছি সামান্য ঘটনায়, স্ত্রী প্রচণ্ড ক্রোধে সেই অপমানের বদলা নিচ্ছে তার অধীনে থাকা নিরীহ নিরুপায় গৃহকর্মীর ওপর সওয়ার হয়ে, তার গায়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে, নির্যাতন করে। আসলে, এভাবে নিজের অক্ষম ক্ষোভ প্রশমন করতে চায় সে। অনেক গৃহবধূর অসহায় রাগ আবার আছড়ে পড়ে পরিবারের দুর্বল অল্পবয়সী শিশু-সন্তানের ওপর। মা তখন আর স্নেহময়ী মা থাকে না, নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। শিশুটি নিজের অজান্তেই তখন পরিস্থিতির শিকার হয়। তার নিষ্পাপ সত্তায় চিরদিনের জন্য গাঢ় হয়ে বসে যায় হিংস্র দাগ। সে বেড়ে ওঠে, চেতনার গভীরে অপমানের স্মৃতি নিয়ে, পরাজিত মনোভাব আর হীনমন্যতা নিয়ে। সুযোগ পেলে সেও নিজেকে প্রকাশ করে আরেকজন নির্মম অপমানকারী হিসেবে। যখন কেউ কা্‌উকে প্রকাশ্যে অপমান করে, তখন তার প্রভাব আশপাশের সবার জীবনেই পড়ে। অসম্মান সবসময়ই অসম্মানকে ডেকে আনে। সহিংসতা উসকে দেয় আরেক সহিংসতা।

সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার হয় নারীরা। সত্যি বলতে কি, এদেশের প্রতিটি নারীর জীবন যেন অপমান-লাঞ্ছনা-গঞ্জনা দিয়ে রচিত মধ্যযুগের বারোমাসী দুঃখের গীত। এখনও অনেক পরিবারে জন্ম মাত্রই কন্যশিশুটিকে সইতে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ার অপমান, তারপর থেকে বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপেই তার জন্য আঘাত আর অপমানের চাবুক হাতে দাঁড়িয়ে থাকে জীবন। কানের কাছে বখাটের অশ্নীল শিস, চলার পথে বিকৃতদের বাজে অশালীন মন্তব্য, বিকারগ্রস্ত পথচারীর নোংরা দৃষ্টির নির্লজ্জ লেহন, ভিড়-বাট্টায়, বাসে-ট্রেনে-লঞ্চে-ফুটপাথে মার্কেটে শরীরে খারাপ স্পর্শ, চরিত্রে মিথ্যা অপবাদের কালিমা লেপন, প্রেমিকের প্রতারণার সুদৃশ্য ফাঁদ, স্বামীর কর্তৃত্ব আর নিয়ন্ত্রণের সুকঠিন জাল, আত্মীয়-স্বজনের আটকে রাখার বেড়ি- আর কত বলবো? এই যে প্রসাধনীর নামে নারীকে উদ্দেশ করে রঙ ফর্সা করার ক্রিম তৈরি করা হচ্ছে, তাকে আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটাও তো নারীকে অপমান করার জন্য তৈরি এক মনোরম হাতিয়ার। যে হাতিয়ার ঠুকে ঠুকে ভেঙে দেওয়া হয় নারীর সবল ব্যক্তিত্ব, তার আত্মবিশ্বাস, তার ভেতরের শক্তিমত্তা। বলা হয়, তোমার রঙ ফর্সা না হলে কোথাও তোমার মূল্য নেই, দৈহিক আবেদন না থাকলে তুমি সমাজে অচল। দাঁতে দাঁত চেপে এসব অপমান উপেক্ষা করে কিংবা সহ্য করেই প্রতিটি নারীর এগিয়ে যাওয়ার গল্প রচিত হতে থাকে, নারীজীবনের সেইসব দুঃসহ অপমান একসাথে করলে হয়তো আরেকটা মহাভারতই রচনা করা যাবে। নারীর জীবন তাই মুঠো মুঠো অপমানের সমষ্টি। সে নারী শিশুই হোক বা হোক প্রাপ্তবয়স্ক। কেউই তো নিরাপদ নয় এই দূষিত সমাজে। এখানে সবাই ধর্ষকামী, সবাই নিপীড়ক। বিভিন্ন উপায়ে বিচিত্র ধরনে আমরা একে অন্যকে, সবল দুর্বলকে, ক্ষমতাবান ক্ষমতাহীনকে, উচ্চপদস্থ অধস্তনকে, বিত্তবান বিত্তহীনকে, প্রেমিক প্রেমিকাকে, স্বামী স্ত্রীকে- অনবরত অসম্মান করে চলেছি, নিপীড়ন করে যাচ্ছি। আমাদের সংবেদনশীলতা এতটাই ভোঁতা হয়ে গেছে যে, অনেক সময় বুঝতেও পারছি না, আমার আচরণ দিয়ে আমি অন্যকে কষ্ট দিচ্ছি, অপমান করছি, অসম্মান করছি। চারিদিকে দেখতে পাচ্ছেন কি লজ্জিত, বেদনার্ত, আতঙ্কিত, আহত মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি? সুযোগ পেলে তারাও আবার নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিচ্ছে আরেকজনের ওপর, যার অবস্থান তারচেয়েও নড়বড়ে, যে আরও দুর্বল আরও ভঙ্গুর। ধর্ষকামী মানসিকতা আমাদের মধ্যে এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, অনেক সময় আমাদের মধ্যকার মমত্ববোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক চেতনা সেই মানসিকতার প্রাবল্যে চাপা পড়ে যায়।

একবার এক সাবেক কলিগ দুঃখ করে বলেছিলেন, 'বুঝলেন আপা, ঝাড়ি খাইতে খাইতে এখন আর কোনো অপমানই আমার গায়ে লাগে না, শরীরে মনে গন্ডারের চামড়া পরে নিছি। যে যার মতো বলে, আমি মাছের মতো ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকি, শুনি কিংবা শুনি না, মেনে নিই কিংবা নিই না, অপমানিত হওয়ার বোধটাও এখন হারিয়ে ফেলেছি। শুধু ভাবি, বাড়িতে বউ বাচ্চা আছে, তাদের জন্য আমাকে উপার্জন করতে হবে, এই একটা কারণেই সব মেনে নিয়ে, ফুটবলের মতো এর পা থেকে গড়িয়ে ওর পায়ে যাই, এর লাথি খেয়ে ওর লাথি খাই, কিছুই মনে হয় না। জীবন এ রকমই বোধশূন্য হয়ে গেছে।'

সত্যি বলতে কি, এ রকম বোধশূন্য জীবনেই হয়তো আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। এ বড় ভয়ানক অভ্যাস, কারণ, এ যে অক্ষমের অভ্যস্ততা। এই অভ্যস্ততার পেটের ভেতরে ঢুকে পড়ে মানুষ দিন দিন চেতনাশূন্য পাথর হয়ে যায়। তখন তার কিছুতেই কিছু আসে যায় না। চোখের সামনে অপরাধ ঘটতে দেখলেও প্রতিবাদ করার ইচ্ছা, সাহস, শক্তি কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। নিজের পিঠ বাঁচিয়ে পালাতে পারলেই হলো, জীবন সার্থক।

আমি শিউরে উঠি, সেই দৃশ্য কল্পনা করে যখন সন্তানের সামনে বাবা কিংবা মা অপমানিত হয়, নিজের চোখে দেখেছি, শিশুপুত্রকে সঙ্গে করে বাবা বসেছেন রাস্তার পাশে কোনো সওদা বেচতে, হঠাৎ কোনো অবিবেচক নিষ্ঠুর ক্রেতার সাথে কথা কাটাকাটি, একপর্যায়ে বাবার গায়ে হাত তুলল সেই লোকটি, মেরে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে দিল রাস্তায়, আর পাশে বসে থাকা শিশুপুত্রটি তখন ভয়ে আতংকে থরথর করে কাঁপছে, কাঁদছে, কিংবা ছুটে যাচ্ছে ভুলুণ্ঠিত অপমানিত আহত পিতার কাছে। যে পিতা হয়তো এতদিন তার চোখে ছিল একমাত্র হিরো। সেই হিরোর পতন হয়তো দুমড়েমুচড়ে দিলো তার ছোট্ট স্বপ্নময় আত্মাটাকে। এ ঘটনায় হয়তো চিরদিনের জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল শিশুটির সদ্য গড়ে উঠতে থাকা কোমল ব্যক্তিত্ব।

আশির দশকের সিনেমার সেই দৃশ্যগুলো মনে পড়ে, যেগুলো প্রায়ই ঘটতো সমাজে? যেখানে প্রতিশ্রুত যৌতুক না পেয়ে বিয়ের আসর থেকে উঠে যেত ছেলে পক্ষ, বিয়ে ভেঙে দিত, নিজের কন্যার চোখের সামনেই অক্ষম অপমানিত বাবা-মা তখন পায়ে পড়ত ছেলে পক্ষের লোভী মুরব্বিদের, কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ করত না বর পক্ষের মানুষগুলো। নিজের পিতামাতার এই অপমান বিয়ের কনের মনে তখন কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে তা হয়তো অনুমানযোগ্য। নারী জন্মকেই তখন ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করে। আমজাদ হোসেনের 'গোলাপী এখন ট্রেনে' ছবিতে মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় গোলাপীর বাবা লজ্জায় ঘৃণায় অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। ১৮ বছর আগে বখাটেদের অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছিল চারুকলার ছাত্রী খিলগাঁওয়ের সিমি বানু। সেই ঘটনা সবাইকে নাড়া দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, সেই অপমান কি সিমি বানুর একার অপমান ছিল, নাকি আমাদের সবার? আজও যে কত সিমি বানু কত অপমান সহ্য করে যাচ্ছে তার কয়টির খবর রাখি আমরা? তবে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করা কখনই সমাধান নয়, মনে রাখতে হবে, জীবনকে ভালোবেসে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অপমানের প্রতিকার করতে হবে। জীবন কখনোই এক জায়গায় থেমে থাকে না। জীবনের ভালো-মন্দ স্বীকার করে নিয়ে জীবনকে উপভোগ করা শিখতে হবে। রবীন্দ্রনাথের সেই কবিতার কথা মনে আছে- 'হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।'

এ তো গেল বাইরের অপমানের কথা। আরেক ধরনের অপমানও আছে, যা নিজের তৈরি করা অপমান, যে অপমান অন্য কেউ করে না, বরং আমরা প্রতিনিয়ত নিজেরাই নিজেকে করি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গেছেন সেটা 'নিজেরে করিতে গৌরব দান, নিজেরে কেবলই করি অপমান।' নিজেকে বড় করে তুলতে আমরা অন্যকে খাটো করছি, ছোট করছি, অন্যকে অসম্মান করছি। আমাদের আত্মগৌরবের সীমানা কখনও কখনও এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে যে, আশপাশে অন্য কাউকে চোখেই পড়ে না। আমিত্ব আমাদের করে তোলে অহংকারী, দুর্বিনীত, দুর্দমনীয়। আমরা তখন প্রকৃতপক্ষে অন্যকে অপমান করতে গিয়ে নিজেদের মানবিক সত্তাকে নিজেরাই অপমান করি। যার যা মর্যাদা প্রাপ্য তাকে তা না দিয়ে নিজেদের মর্যাদা কীভাবে আশা করতে পারি? যদি বিনীত না হই, উদার না হই, যদি নম্র না হই, যদি অন্যের প্রতি সহমর্মী না হই, যদি সমব্যথী না হই, অহংকার ত্যাগ না করি, সহনশীল না হই, তাহলে কিসের উচ্চতর জীবন বোধ? কিসের এই মানব জীবন? কিসের জন্য এত অহংকার?

অপমানে দগ্ধ অন্তরের ক্ষত সারাতে হয় স্ট্নেহ, ভালোবাসা আর প্রশান্তির প্রলেপ দিয়ে। সেই প্রলেপ প্রিয়জন দিতে পারে, দিতে পারে কাছের মানুষেরা। জীবনের গায়ে বিঁধে থাকা অপমানের কাঁটা তুলতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে, শান্ত থাকতে হবে, লক্ষ্যে অটল থাকতে হবে, সেইসঙ্গে জীবনের কঠিন সত্যগুলোকে সহজভাবে গ্রহণ করা শিখতে হবে। ব্যর্থতাকে মোকাবেলা করতে হবে সাহসের সঙ্গে। চারপাশ বদলাতে চাইলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে, যাতে অপমানের সকল কাঁটা ভালোবাসার ফুল হয়ে ফোটে।