রবীন্দ্রনাথের অগ্রন্থিত পত্রগুচ্ছ

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০১৯      

সংগ্রহ ও ভূমিকা ভূঁঁইয়া ইকবাল

রবীন্দ্রনাথের অগ্রন্থিত পত্রগুচ্ছ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [২৫ বৈশাখ, ১২৬৮-২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ; ৭ মে, ১৮৬১-৭ই আগস্ট, ১৯৪১]

রবীন্দ্রনাথ নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর 'লেখার চেয়ে কম হবে না' তাঁর চিঠি। নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই কবির পত্রপ্রাপ্তির সংখ্যা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তিনি খ্যাত-অখ্যাত সব পত্রকারকে জবাব দিতেন। এক চিঠিতে কবি বলেছেন, তিনি রোজ পঞ্চাশখানা চিঠি লেখেন।

অবশ্য দাপ্তরিক ও আনুষ্ঠানিক-প্রাতিষ্ঠানিক পত্র রচনায় তাঁর সচিব অমিয় চক্রবর্তী, অনিল চন্দ, সুধাকান্ত রায়চৌধুরী, সুধীররঞ্জন কর ও কৃষ্ণ কৃপালনী ছিলেন সহায়।

শান্তিনিকেতনে এক আশ্রমিকের কাছে শুনেছি, কবি দিনের কাজ শুরু করতেন পত্রোত্তর লিখে। দু-এক লাইন হলেও চিঠির জবাব দিতেন। জীবন-সায়াহ্নে শরীর যখন অশক্ত, দৃষ্টিকে ক্লিষ্ট করেও লিখতে পারছেন না, তখন অন্যের সাহায্যে ডিকটেশন দিয়ে চিঠি লিখিয়ে তাতে কাঁপা হাতে স্বাক্ষর করতেন।

'ডাকঘর'-এর উর্দু-তর্জমাকার রাহাত আরার কন্যা ফিরদৌস করিমকে এক পত্রে কবি জানাচ্ছেন :

দুর্বল দেহে, শিথিল হাতে সমস্ত চিঠিটুকু লিখবার ক্ষমতা নেই- তাই অন্যের সাহায্যে চিঠি লিখতে হোল। (১৪/৫/১৯৪১)

১৯৩৮-এ কবি 'আনন্দবাজার পত্রিকা'য় প্রকাশের জন্যে এই পত্রে লেখেন :

বন্ধুবর্গ ও জনসাধারণের সহিত পত্র ব্যবহার এবং তাঁহাদের অন্যান্য অনুরোধ রক্ষা করা আমার জীর্ণ শরীর মনের পক্ষে দুর্বহ হওয়াতে এই সমস্ত দায়িত্বভার হইতে আমাকে নিস্কৃতি দিবার জন্য সকলের নিকট আমি সানুনয় অনুরোধ জানাইতেছি। ২৬/৬



সদ্য প্রয়াত ড. গৌরচন্দ্র সাহা তাঁর কীর্তিস্তম্ভ 'রবীন্দ্রপত্র প্রবাহ ও তথ্যপঞ্জি : কালানুক্রমিক' গ্রন্থে সাত হাজার দুশো তেষট্টিটি চিঠির হদিস দিয়েছেন। (দেশ, ২ মে ২০১৯ পৃ. ৭৯)

বিশ্বভারতী মাত্র ১৯ খণ্ড 'চিঠিপত্র' প্রকাশে সক্ষম হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের অন্য তিনটি পত্রসংকলন :'ছিন্নপত্রাবলী', 'পথে ও পথের প্রান্তে' এবং 'ভানুসিংহের পত্রাবলী'।

যাঁদেরকে লেখা কবির চিঠি বিশ্বভারতী প্রকাশ করেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দিরা দেবী, পত্নী মৃণালিনী দেবী, রথীন্দ্রনাথ, কন্যা মাধুরীলতা, মীরা দেবী, নাতি নীতীন্দ্রনাথ, দৌহিত্রী নন্দিতা, পৌত্রী নন্দিনী, পুত্রবধূ প্রতিমা, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, জ্যোতিরীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরী, জগদীশচন্দ্র বসু, কাদম্বিনী দেবী, প্রিয়নাথ সেন, হেমন্তবালা দেবী, দীনেশচন্দ্র সেন, অমিয় চক্রবর্তী, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, যদুনাথ সরকার, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সমর সেন, রানু দেবী প্রমুখ।

ড. গৌরচন্দ্র সাহা রবীন্দ্রপত্রমালার যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, আরো অনেক চিঠি হয়তো তাঁর পঞ্জিতে নেই। পত্র প্রাপকদের উত্তরাধিকারীদের কাছে এখনও কিছু চিঠি আছে। তাঁরা কেউ আবেগের বশে, কেউ বা বেশি দামে বিক্রির আশায় আছেন। তবে অনেকে এখনো রবীন্দ্র ভবনে কবির মূল চিঠি উপহার দিচ্ছেন। এ ছাড়া ইংরেজি চিঠি উল্লিখিত হিসেবের বাইরে। রবীন্দ্রতথ্যভাণ্ডারী পুলিনবিহারী সেন সাময়িকপত্রে প্রকাশিত রবীন্দ্ররচনা তালিকা নির্মাণ করেছেন। ওই তালিকায় তিনটি চিঠির উল্লেখ করে বলা হয়েছে 'অপ্রকাশিত'। পুলিন সেন 'অপ্রকাশিত' বলতে বোঝাতে চেয়েছেন অগ্রন্থিত। এ রকম তিনটি চিঠির সন্ধান পাওয়া গেছে :

ক. অনঙ্গমোহন রায়কে লেখা,

খ. প্রাপকের নাম অজ্ঞাত,

গ. সুবোধ সান্যালকে লেখা;

আমরা ১৩১০ বঙ্গাব্দ, ১৯১৩ খ্রি. ও ১৩২৬ বঙ্গাব্দের তিনটি চিঠি সাময়িকপত্রের জীর্ণ পাতা থেকে উদ্ধারে সমর্থ হয়েছি। প্রথম দুটি রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়-সম্পাদিত সেকালের শ্রেষ্ঠ বাংলা সাময়িকপত্র (একালেও অত সমৃদ্ধ মাসিক পত্রিকা দুর্লভ) 'প্রবাসী'র ১৩৩৩-এর ভাদ্র-আশ্বিন এবং অগ্রহায়ণ সংখ্যায় প্রকাশ পায়। শেষোক্তটি জগদীন্দ্রনাথ রায়-সম্পাদিত 'মানসী ও মর্ম্মবাণী'তে (মাঘ ১৩২৬) স্থান পেয়েছিল।

কৃতজ্ঞতা-স্বীকার :মুখছুদুর রহমান, গ্রন্থাগার সহকারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর।

চিঠি তিনটির অবিকল নকল-


চিঠি- এক :অনঙ্গমোহন রায়কে লেখা

ওঁ

শিলাইদহ

নদীয়া

সবিনয় নমস্কার পূর্ব্বক নিবেদন,

বোলপুর হইতে কলিকাতা এবং কলিকাতা হইতে শিলাইদহে আসিবার ব্যস্ততায় যথাসময়ে আপনার পত্রের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় নাই- ক্ষমা করিবেন।

আমাদের দেশে ঈশ্বরের সুন্দর-স্বরূপের উপাসনা যে অপ্রচলিত আছে তাহা বলিতে পারি না। বস্তুত বৈষ্ণব ধর্ম্ম প্রধানত সৌন্দর্য্যরসেরই ধর্ম্ম। য়ুরোপে সুন্দর-স্বরূপ কেবল কবির কাব্যে প্রকাশমান এবং দার্শনিকের তত্ত্বকথায় নিবদ্ধ, কিন্তু সেখানকার পূজা উপাসনার মধ্যে তিনি নাই।

আমাদের দেশে সুন্দর-স্বরূপ ভক্ত-সম্প্রদায়ের ভাবমুগ্ধ চিত্তের পূজা লাভ করিয়া আসিয়াছেন।

আমার পিতা স্বভাবতই সুন্দরের উপাসক ছিলেন। জ্ঞানের দিক্‌ দিয়া ব্রহ্মকে উপলব্ধি করিবার সহায়তা তিনি উপনিষৎ হইতে পাইয়াছিলেন- রসের দিক্‌ দিয়া সুন্দরকে সেবা করিবার উপকরণ তিনি কোন্‌ শাস্ত্র হইতে সংগ্রহ করিতেন এই প্রশ্ন আপনার মনে জাগিয়াছে। ফরাসী দার্শনিক কুঁজ্যার গ্রন্থই তাঁহার অবলম্বন ছিল এ কথা ঠিক নহে- তত্ত্বশাস্ত্র ভক্তিবৃত্তিকে রস জোগাইতে পারে না।

বৈষ্ণব ধর্ম্মমত ও পদাবলী আমার পিতার হৃদয়কে অধিকার করে নাই সে আমি জানি। তাঁহার রসভোগের সখা ছিলেন হাফেজ। তিনি নিজে কাব্য রচনা করিতে পারেন নাই তাঁহার সেই আকাঙ্ক্ষা মিটাইয়াছিলেন হাফেজের গানে। উপনিষৎ তাঁহার ক্ষুধা মিটাইত আর হাফেজ তাঁহার তৃষ্ণা দূর করিয়াছিল।

..... ইতি

২৮ শে আষাঢ় ১৩১৬, ভবদীয়

শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চিঠি :২ :প্রাপক অজ্ঞাত

প্রবাসের চিঠি

(১৯১৩ সালে আমেরিকা হইতে লিখিত)

2970, Groveland ave
            Chicago.

কল্যাণীয়েষু,

আগামী সোমবারে অর্থাৎ পর্শু আমরা আর্ব্বানায় ফিরব। তারপরে ইংলে যাত্রার উদ্যোগ করতে হ'বে। এই মার্চ্চ মাসেই আমি যাব মনে করেছিলুম- কিন্তু মার্চ্চে বাতাস প্রবল এবং আটলাণ্টিক অশান্তত- তা ছাড়া শীতঋতু বিদায়ের পূর্ব্বে তার শেষ নাড়া দিয়ে যায়- সেটা জলের উপরে আরামের হয় না। তাই ঠিক করেছি, এপ্রিলের মাঝামাঝি যখন বসন্ত কতকটা তার আসর জমিয়ে বসেছে সেই সময়ে আমরা পাড়ি দেব- ইংলণ্ড গিয়ে যখন পৌঁছব তখন দেখব তার কালো ঘোমটা ঘুচেছে। অতএব এ চিঠির উত্তর এখানে দিয়ো না।

আমাদের বিদ্যালয়ের এই একটি বিশেষত্ব আছে যে, বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে অখ যোগে আমরা ছোলদের মানুষ করতে চাই- কতকগুলি বিশেষ শক্তির উগ্র বিকাশ নয়, কিন্তু চারিদিকের সঙ্গে চিত্তের মিলনের দ্বারা প্রকৃতির পূর্ণতা সাধন আমাদের উদ্দেশ্য। এটা যে কতবড় জিনিষ তা এ দেশে এলে আমরা আরো স্পষ্ট ক'রে বুঝ্‌তে পারি। এখানে মানুষের শক্তির মূর্ত্তি যে পরিমাণে দেখি, পূর্ণতার মূর্ত্তি সে পরিমাণে দেখ্‌তে পাইনে। আমাদের দেশে মানুষের যেমন একটা সামাজিক জাতিভেদ আছে- এদের দেশে তেম্‌নি মানুষের চিত্তবৃত্তির একটা জাতিভেদ দেখ্‌তে পাই। মানুষের শক্তি নিজ নিজ অধিকারের মধ্যে অতিশয় মাত্রায় প্রধান হ'য়ে উঠেছে- প্রত্যেকে আপনার সীমার মধ্যে যোগ্যতা লাভ র্ক‌বার জন্যে উদ্যোগী, সীমা অতিক্রম ক'রে যোগ্যতা লাভ র্ক‌বার কোনো সাধনা নেই। এরকম জাতিভেদের উপযোগিতা কিছুদিনের জন্যে ভাল। যেমন কোনো কোনো সব্‌জীর বীজ প্রথমটা টবে পুঁতে ভাল ক'রে আর্জ্জিয়ে নিতে হয় তার পরে তাকে ক্ষেত্রের মধ্যে রোপণ করা কর্ত্তব্য- এও সেইরকম। শক্তিকে তার টবে পুঁতে একটু তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে তোলার কৃষি প্রণালীকে নিন্দা করতে পারিনে, যদি তার পরে যথাসময়ে তাকে উদার ক্ষেত্রে রোপণ করা যায়। কিন্তু মানুষের মুস্কিল এই দেখি, নিজের সফলতার চেয়ে নিজের অভ্যাসকে বেশি ভালবাস্‌তে শেখে- এইজন্যে টবের সামগ্রীকে ক্ষেতে পোঁত্‌বার সময় প্রত্যেক বারে মহা দাঙ্গাহাঙ্গামা বেধে যায়। মানুষের শক্তির যতদূর বাড় হ'বার তা হ'য়েছে, এখন সময় এসেছে যখন যোগের জন্য সাধনা র্ক‌তে হ'বে। আমাদের বিদ্যালয়ে আমরা কি সেই যুগ-সাধনার প্রবর্ত্তন র্ক‌তে র্পা‌ব না? মনুষ্যত্বকে বিশ্বের সঙ্গে যোগযুক্ত ক'রে তার আদর্শ কি আমরা পৃথিবীর সাম্‌নে ধরব না? এ দেশে তার অভাব এরা অনুভব করতে আরম্ভ করেছে- সেই অভাব মোচন র্ক‌বার জন্যে এরা হাত্‌ড়ে বেড়াচ্চে- এদের শিক্ষাপ্রণালীর মধ্যে উদারতা আন্‌বার জন্যে এদের দৃষ্টি পড়েছে, কিন্তু এদের দোষ হচ্ছে এই যে, এরা প্রণালী জিনিষটাকে অত্যন্ত বিশ্বাস করে- যা কিছু আবশ্যক সমস্তকে এরা তৈরি ক'রে নিতে চায়- সেটি হবার জো নেই। মানুষের চিত্তের গম্ভীর কেন্দ্রস্থলে সহজ জীবনের যে অমৃত-উৎস আছে এরা তাকে এখনো আমল দিতে জানে না- এইজন্যে এদের চেষ্টা কেবলি বিপুল এবং আসবাব কেবলি স্তূপাকার হ'য়ে উঠ্‌চে। এরা লাভকে সহজ র্ক‌বার জন্যে প্রণালীকে কেবলি কঠিন ক'রে তুল্‌চে। তাতে একদিকে মানুষের শক্তির চর্চ্চা খুবই প্রবল হ'চ্ছে সন্দেহ নেই এবং সে জিনিষটাকে অবজ্ঞা করতে চাইনে- কিন্তু মানুষের শক্তি আছে অথচ উপলব্ধি নেই এও যেমন আর ডাল-পালায় গাছ খুব বেড়ে উঠ্‌চে অথচ তার ফল নেই এও তেম্‌নি। মানুষকে তার সফলতার সুরটি ধরিয়ে দেবার সময় এসেছে। আমাদের শান্তি-নিকেতনের পাখীদের কণ্ঠে সেই সুরটি কি ভোরের আলোতে ফুটে উঠ্‌বে না? সেটি সৌন্দর্য্যের সুর, সেটি আনন্দের সঙ্গীত, সেটি আকাশের এবং আলোকের অনির্ব্বচনীয়তার স্তবগান, সেটি বিরাট প্রাণ-সমুদ্রের লহরী-লীলার কলস্বর- সে কারখানা-ঘরের শৃঙ্গ-ধ্বনি নয়। সুতরাং ছোট হ'য়েও সে বড়, কোমল হ'য়েও সে প্রবল- সে কেবলমাত্র চোখ মেলা, কেবলমাত্র জাগরণ, সে কুস্তি নয়, মারামারি নয়, সে চেতনার প্রসন্নতা। জীবনের ভিতর দিয়ে তোমরা ফুলের মত সেই জিনিষটি ফুটিয়ে তোলো- কেননা সবই যখন তৈরি হ'য়ে যাবে- মন্দিরের চূড়া যখন মেঘ ভেদ ক'রে উঠবে; তখন সেই বিনা মূল্যের ফুলের অভাবেই মানুষের দেবতার পূজা হ'তে পারবে না, মানুষের সব আয়োজন ব্যর্থ হ'য়ে যাবে। সেই একশো এক পূজার পদ্ম যখন সংগ্রহ হবে, পূজা যখন সমাধা হবে তখনি সংসার-সংগ্রামে মানুষ জয়লাভ র্ক‌তে পারবে- কেবল অস্ত্র-শস্ত্রের জোরে জয় হবে না এই কথা নিশ্চয় জেনে পৃথিবীর সমস্ত কলরবের মাঝখানে আমাদের কাজ যেন নিঃশব্দে ক'রে যেতে পারি।

তোমাদের
শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(দীপিকা, ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৩৩)
শান্তিনিকেতন

চিঠি : তিন :প্রাপক :সুবোধ স্যানাল

কল্যাণীয়েষু

কোনো এক সময়ে আমি হেমচন্দ্রের বৃত্র-সংহারের সহিত মেঘনাদবধের তুলনা করিয়াছিলাম। সেই প্রবন্ধে যে অভিমত প্রকাশ করিয়াছিলাম তাহাতে আমারই মূঢ়তা প্রকাশ পাইয়াছিল। যদি আমার সেই লেখা উদ্ৃব্দত করিয়া আজ কোনো লেখক আমাকে মাইকেলের প্রতিকূলে তাঁহার স্বদলে সাক্ষীস্বরূপ দাঁড় করান, তবে ইহা আমার কর্ম্মফল।

১লা মাঘ, ১৩২৬
শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর