গুজব রটনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

নোমান আবদুল্লাহ/আনোয়ার রোজেন

চট্টগ্রামে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পোশাকশিল্প খাত। সংসদ নির্বাচনের আগের দিন থেকে অস্থিরতা দেখা দেয় চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলোতে। নতুন স্কেলে বেতন না দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে ইপিজেডে। পুলিশের গুলিতে রক্ত ঝরছে শ্রমিকের। ভাংচুর হচ্ছে কারখানা। আগুনে পুড়ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে গুজব সৃষ্টিকারীরা। গত সাত দিনের সহিংসতায় আহত হয়েছে ১১ পুলিশসহ শতাধিক শ্রমিক। এসব ঘটনায় এখনও আটক হয়নি কেউই। শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও ৬০ প্রতিষ্ঠানে।
সিইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (জিএম) এসএম আবদুর রশিদ বলেন, 'নতুন স্কেলে বেতন দেওয়া সত্ত্বেও গুজব ছড়িয়ে গত কয়েক দিন কারখানাগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে কারা, তা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এ সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।'
সম্প্রতি গাজীপুর ও ঢাকার বেশকিছু কারখানায় ব্যাপক সহিংসতা হলেও শান্ত ছিল চট্টগ্রামের শিল্প এলাকা। হঠাৎ নির্বাচনের আগের দিন বেতন কম দেওয়ার অজুহাতে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয় সিইপিজেডের সেকশন সেভেন কারখানায়। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়। গত ৭ জানুয়ারি ফের গুজব ছড়িয়ে কর্মবিরতিতে যায় সিইপিজেডের গ্গ্নোবাল ফেব্রিক্স, সিট্যাক্স, মিলেনিয়াম, আল সালাম, আরটিটি টাওয়েল ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত ৯ জানুয়ারি কেইপিজেডে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে নিহত হন পারভিন নামের এক শ্রমিক। যাতায়াত ভাতা কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা ভাংচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে 'বহিরাগতরা' কারখানার ভেতরে নাশকতা চালায়।
কেইপিজেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফী আনোয়ারুল আজিম বলেন, 'প্রথম দফা আলোচনার পর শ্রমিকরা কাজে ফিরে যায়। এ সময় কিছু বহিরাগত এবং শ্রমিক কারখানায় ভাংচুর চালায়।'
তবে নাশকতার জন্য বেতন কাঠামো সম্পর্কে শ্রমিকদের অজ্ঞতাকেই দায়ী করছেন সিইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (জিএম) এসএম আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, 'নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে বেশিরভাগ শ্রমিকের স্পষ্ট ধারণা নেই। এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে।'
এদিকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আরও ৬০টি প্রতিষ্ঠানে নাশকতার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দারা। শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক আরিফুর রহমান আরিফ জানান, অনেক মালিকই ঘোষিত স্কেল অনুযায়ী বেতন দিতে গড়িমসি করছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন ৬০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানেও শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অসন্তোষ মেটানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন সিইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (জিএম) এসএম আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, 'সিইপিজেডের ১৭১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানই নতুন স্কেলে বেতন পরিশোধ করেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবে।'