চট্টগ্রামে মৃত্যুর মিছিলে সর্বশেষ নাম মিতুল

রাজনৈতিক সহিংসতা

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

স্বপন কুমার মলি্লক/সালাহ্ উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে মৃত্যুর মিছিলে সর্বশেষ নাম মিতুল

হরতাল-অবরোধকারীদের পেট্রোল বোমায় নিহত চট্টগ্রামের লেগুনাচালক মিতুলের স্বজনদের আহাজারি সমকাল

মিতুল। মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ নাম। রাজনীতির বলি হয়ে গতকাল পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে। মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভালোই চলছিল মিতুলের সংসার। কিন্তু সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ওপারে চলে গেলেন তিনি। মাত্র একদিন আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিতুলের মতো ওপারে চলে যেতে হয়েছে সিএনজিচালক সাহাবুদ্দিনকেও। এভাবেই প্রাণ যাচ্ছে একের পর এক সাধারণ মানুষের। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও গত দেড় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৫ জনের।
সহিংসতায় কারও প্রাণ গেলেও কেউ কেউ বেঁচে আছেন সহিংসতার স্মৃতি চিহ্ন নিয়ে। তাদেরই একজন ফেনীর জাহেদ। পেট্রোল বোমায় উড়ে গেছে তার ডান হাত। এক চোখে আর দেখতে পান না সাতকানিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমগীর।
৮ বছর বয়সী অনিককেও সুন্দর এ পৃথিবীটা দেখতে হবে কেবল ডান চোখে। অগি্নদগ্ধ শরীর নিয়ে কোনোমতে বেঁেচ আছেন পটিয়ার ইয়াসিন আকতার। নৃশংস রাজনীতির এমন ভয়াবহ স্মৃতি আছে স্কুলছাত্রী সাদিয়া, অন্তু বড়ূয়া ও বেলালদেরও।
চলে গেলেন মিতুল
২২ বছরের মিতুলের চলে যাওয়া দেখে গতকাল চমেক হাসপাতালের বাতাস স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছিল। বাবা মো. হান্নান বলেন, 'মিতুল ছিল পরিবারের বড় সন্তান। মো. আফ্রান নামে তার ১৮ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে দু'বছর আগে লেগুনা চালাতে থাকে সে। সেই লেগুনার আগুনেই সব হারালাম আমরা।' গত সোমবার রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পলিটেকনিক্যাল মোড়ে পিকেটারদের পেট্রোল বোমায় অগি্নদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মিতুল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মৃদুল কান্তি দাশ সমকালকে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় মিতুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে ৮০ শতাংশ অগি্নদগ্ধ হয়। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
গত ৪ জানুয়ারি ফেনী ট্রাঙ্ক রোডে পিকেটারদের পেট্রোল বোমায় আহত সাহাবুদ্দিন ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করেন। গত ১৫ ডিসেম্বর মারা যান হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক আবদুল আজিজ। তিনি গত ২ ডিসেম্বর পিকেটারদের ছুড়ে মারা ককটেলে আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৭ নভেম্বর পিকেটারদের ধাওয়ায় ট্যাক্সি উল্টে প্রাণ হারান পটিয়ার দক্ষিণ চাটরা গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. এরশাদ। ১১ নভেম্বর হাটহাজারীর মদুনাঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একইভাবে প্রাণ হারান ইউএসটিসির কর্মচারী নির্মল দাশ। গত ১৭ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ডে অবরোধকারীদের নৃশংশতায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তির পর ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান আহসান উল্লাহ।