জনসভায় আওয়ামী লীগ নেতারা

সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার আওয়ামী লীগের জনসভায় উপস্থিত জনতার একাংশ সমকাল

বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, সহিংসতা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। আমরা এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত করব।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। সাড়ে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে এ কাজ শেষ করতে দেওয়া হয়নি। দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে তার কন্যা শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছেন। এবার খালেদা জিয়া বিচার বাধাগ্রস্ত করতে নাশকতা চালাচ্ছেন, মানুষ মারছেন। কিন্তু অতীতের মতো এবার বিচার বন্ধ করতে দেওয়া হবে না।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপি নেত্রী আরেকবার পরাজিত হয়েছেন মন্তব্য করে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা একবার পরাজিত হয়, তারা বারবারই পরাজিত হয়। এ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তার দম্ভ ও স্বপ্ন ভেঙে গেছে। চাইলে বিএনপি নেত্রী আর বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবেন না। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।
উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আগামী নির্বাচনও শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। জনপ্রতিনিধি ছাড়া এক মুহূর্ত দেশ চলবে না।
খালেদা জিয়াকে 'লেডি লাদেন' আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, 'উনি লাদেন স্টাইলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। তার দুর্নীতিবাজ ছেলে ভিডিও বার্তা দিয়ে উগ্রগোষ্ঠীকে উস্কে দিচ্ছেন। তারা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম নির্যাতন করছে। কিন্তু কাউকে মাফ করা হবে না।'
বিএনপি চেয়ারপারসনের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জামায়াতের কথা শুনে আপনি ভুল করেছেন। নির্বাচনে না এসে আপনি সব হারিয়েছেন। একুল-ওকুল দু'কুল হারিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, এখন শুধু জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী দল নয়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রধান স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় অন্যদের মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীরবিক্রম), যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশারফ, যুবমহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ,
সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম প্রমুখ।