ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করার উদ্যোগ

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

আবু সালেহ রনি

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্থায়ী 'ডিজিটাল সনদ' দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর পরও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট প্রণীত তালিকা অনুসারে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৮৩৩। ডিজিটাল সনদের জন্য এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৮ জন।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার 'মায়ের নাম' ও 'ডাকঘর' সংযুক্ত করে তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর ফলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তালিকাভুক্ত পৌনে দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফের তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এর পর চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে তাদের দেওয়া হবে ডিজিটাল সনদ।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৮ জন ডিজিটাল সনদের জন্য ডাটাবেজে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। জুনের মধ্যে সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চাইলে বাদপড়াদের মধ্যে যে কেউ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে ১২ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের 'মায়ের নাম' ও 'ডাকঘর' সংযুক্ত করে ফের তথ্য হালনাগাদের জন্য বলা হয়।
ডিজিটাল সনদ :মন্ত্রণালয় বলছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ডাটাবেজের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অত্যাধুনিক ও নকল প্রতিরোধক 'ডিজিটাল সনদ' দেওয়া হবে। ফলে এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের আমলে ইস্যু করা কাগজের সব ধরনের অস্থায়ী বা সাময়িক মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হবে। এ লক্ষ্যে গত বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সনদ দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশসহ একাটি প্রস্তাব পাঠানো হয় মন্ত্রণালয় থেকে। এর পর প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর তথ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করতে আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের 'মায়ের নাম' ও 'ডাকঘর'সহ তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান,
অত্যাধুনিক ডিজিটাল সনদটি যাতে কোনোক্রমেই জাল করা না যায়, সে জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৯টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত এ সনদে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি, পুরো সনদে সূক্ষ্মভাবে জয় বাংলা লেখা, বারকোড, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মনোগ্রাম, জলছাপ, টাকার মতো নিরাপত্তা সুতা, থ্রিডি প্রযুক্তির ব্যবহার, সাউন্ড ইফেক্ট হওয়া, স্ক্যান ও ফটোস্ট্যাট প্রটেকশন সিস্টেম। ডিজিটাল এ সনদে ইস্যুকারী হিসেবে থাকছে প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং সচিবের নাম ও স্বাক্ষর।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সমকালকে বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে কিছুটা অবহিত হয়েছি। ডিজিটাল সনদ বিতরণ শুরু হলে কাগজের সব ধরনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়ে যাবে। আশা করি, এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা উপকৃত হবেন।' মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'যতদূর সম্ভব আধুনিক সব ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকছে ডিজিটাল এই সনদে। প্রচলনযোগ্য টাকায় বারকোড ব্যবহার করা না গেলেও এই সনদে তা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া জাল প্রতিরোধে সনদটিতে আরও থাকবে থ্রিডি প্রযুক্তি, সাউন্ড ইফেক্ট, স্ক্যান, ফটোস্ট্যাট প্রটেকশনসহ নানা সিস্টেম। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিশেষ ধরনের কলম ডিজিটাল সনদটিতে ব্যবহার করলেই শোনা যাবে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের অংশবিশেষ। ফলে সনদ জালিয়াতি রোধ করা অনেকাংশেই সম্ভব হবে।'
সূত্র জানায়, চার শ্রেণীতে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এই সনদ দেওয়া হচ্ছে।