মওদুদসহ পাঁচ বিএনপি নেতার জামিন

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ দলের পাঁচ নেতাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার পৃথক দুই মামলার এ জামিন দেন। মওদুদ আহমদ ছাড়া অন্য চার নেতা হলেন_ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
আদেশের পর বিএনপি নেতাদের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে থাকা পাঁচ মামলার মধ্যে এর আগে নিম্ন আদালত থেকে তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ায় তার মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে অপর চার নেতার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা চলমান থাকায় তারা এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।
গত ৭ নভেম্বর রাতে বিএনপির এই ৫ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদেরকে একাধিক মামলায়
গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে গাড়ি ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৫ নভেম্বর মতিঝিল থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় এই পাঁচ নেতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন।
গতকাল পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
আদালত প্রতিবেদক জানান, মতিঝিল থানার পৃথক দুই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ ৫ নেতার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। প্রয়োজনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির সময় বিএনপির শীর্ষ এই ৫ নেতাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে হেফাজতের সহিংসতায় দায়ের করা মতিঝিল থানার পৃথক তিন মামলায় একই দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহর জামিন আবেদন শুনানি শেষে নামঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হক। গত ১৩ জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে মামলাগুলোতে তার জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধেই দায়রা আদালতে ফৌজদারি বিধিমূলে জামিন চাওয়া হয়।
আদালতে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে ও জামিনের আপত্তি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি শাহ আলম তালুকদার প্রমুখ শুনানি করেন। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ্য এ নেতাদের রিমান্ড নাকচ ও জামিনের আবেদন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানাউলাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহসীন মিয়া প্রমুখ।