উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে

খুলনায় আ'লীগকে খালি মাঠ ছাড়বে না বিএনপি

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

হাসান হিমালয়, খুলনা ব্যুরো

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ছাড় দিতে রাজি নয় খুলনা বিএনপি। এ জন্য দলের সিদ্ধান্তের আগেই প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপি নেতারা। প্রথম দফায় দুটি উপজেলার তফসিল ঘোষণা হলেও নির্বাচনী তৎপরতা চলছে ৯টি উপজেলাতেই। সেখানে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী বিএনপির ২০ নেতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারির উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খুলনার ৮টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি গতবার কোনো প্রার্থী দেয়নি।
৪টি উপজেলার মধ্যে শুধু ফুলতলাতেই নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। এবার ৯টি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ নিজেদের দখলে আনতে আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিএনপির ২০ নেতা। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে, এমন ইঙ্গিত পেয়েই কাজ শুরু করেছেন তারা। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সে জন্য তারা একটি খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ উপজেলাতেই দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী।
প্রথম দফা খুলনার দীঘলিয়া ও কয়রা উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। কয়রা উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহী উপজেলা সভাপতি মোমরেজুল ইসলাম, সহসভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান। দীঘলিয়ায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুর রহমান মিন্টু, উপজেলার দুই ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর বেগম ও শরীফ মোজাম্মেল হোসেনও বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন।
ফুলতলা উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু এবারও প্রার্থী। এখানে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি গাজী আবদুল হক ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাত রিজভী মার্শাল।
দাকোপে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের খান ও সাধারণ সম্পাদক অসিত কুমার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী। বটিয়াঘাটায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা সভাপতি আমীর এজাজ খান। এখানে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিকু, সহসভাপতি খায়রুল ইসলাম জনি ও আশিকুজ্জামান আশিকও প্রার্থী হতে আগ্রহী। তেরখাদায় প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম। প্রার্থী হতে আগ্রহী জেলা বিএনপি নেতা রবিউল হোসেনও।
রূপসা উপজেলায় প্রার্থী হতে চাইছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হাসান বাপ্পী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ আবদুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ আবু হোসেন বাবু। এর মধ্যে বাবু গত নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
ডুমুরিয়ায় চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোল্লা আবুল কাশেম এবং পাইকগাছায় আবদুল মজিদ এখনও পর্যন্ত বিএনপির একক প্রার্থী। গত নির্বাচনে তারা দু'জনই পরাজিত হয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা সমকালকে বলেন, জেলার ৯টি উপজেলার ৬৮টি ইউপি চেয়ারম্যানের অধিকাংশই বিএনপি সমর্থিত। উপজেলা নির্বাচনেও একই অবস্থা হবে বলে তারা আশাবাদী। নির্বাচনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বাকিটা।