সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধ'

বনদস্যু 'শীর্ষ বাহিনীর' প্রধান রেজাউল গুলিবিদ্ধ

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট/শরণখোলা প্রতিনিধি
পূর্ব সুন্দরবনে বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া এলাকায় রোববার রাতের 'বন্দুকযুদ্ধে' বনদস্যু শীর্ষ বাহিনীর প্রধান রেজাউল করিম গুলিবিদ্ধ হয়েছে_ এ তথ্য নিশ্চিত করে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, একাধিক সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি, রেজাউল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কেউ মারা গেছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা কোনো জলদস্যুর লাশ উদ্ধার করতে পারিনি। জলদস্যুদের বোট ডুবে গেছে। সেটাও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কোস্টগার্ড ও র‌্যাব দুই দিন যৌথ তল্লাশি চালিয়েছে। এদিকে স্থানীয় মাঝিরা জানান, 'বন্দুকযুদ্ধে'র ঘটনার পর মঙ্গলবার সাগরে তারা কয়েকটি লাশ ভাসতে দেখেছেন।
বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় র‌্যাব-৮-এর ডিএডি নাজির আহমেদ ফারুকী বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বাহিনীপ্রধান রেজাউলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩২ জনকে আসামি করে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় মামলা করেছেন। শরণখোলা থানার ওসি মো. আবদুস ছালেক এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল র‌্যাব-৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম মোবাইল ফোনে মঙ্গলবার দুপুরে জানান, রোববার রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সুন্দরবনের নারকেলবাড়িয়া এলাকায় ঘণ্টাখানেক ধরে দস্যুবাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধ চলে। দস্যুবাহিনীর প্রধান রেজাউল, সহযোগী সালেহ হুজুরসহ অনেক বনদস্যু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। উপকূল এলাকায় ভাসমান লাশের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাশগুলো দস্যুবাহিনীর সদস্যদের হতে পারে।
র‌্যাব জানায়, দস্যুদের গুলিতে গুরুতর আহত র‌্যাবের ল্যান্স করপোরাল সাইফুল ইসলাম ও জাহাজের সুকানি হায়দার আলীকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে সোমবার দুপুরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
সাইফুলকে পিলখানা বর্ডার গার্ড হাসপাতালে এবং জাহাজের সুকানিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।