সংরক্ষিত আসনে ফরিদপুরের মনোনয়নপ্রত্যাশী যারা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বেশ কয়েকজন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গত শুক্রবার। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন_ সাবেক সংসদ সদস্য সালেহা মোশাররফ ও নিলুফার জাফরউল্যাহ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাজনীন হায়দার, সদস্য সচিব আইভি মাসুদ। এ ছাড়া ফরিদপুর জাতীয় পার্টির সহসভাপতি হাসিনা ইমরান চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
তারা প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে দলের নেতাকর্মীদের আশা, দল থেকে যারা মনোনীত হবেন, তারা যেন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ, শিক্ষিত ও কর্মোদ্যমী হন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী নাজনীন হায়দার এক যুগের বেশি সময় ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের হাল ধরে আছেন। তার প্রয়াত স্বামী অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার হোসেন সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাজনীন হায়দার বলেন, 'দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করছি। এখন দলীয় নেতৃত্ব যদি বিবেচনা করে, তাহলে নিজেকে উজাড় করে দেব।'
মনোনয়নপ্রত্যাশী আইভি মাসুদও দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তিনি দীর্ঘদিন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তার প্রতি সহানুভূতিশীল। আইভি মাসুদ বলেন, 'জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব।' তিনি বলেন, দলের জন্য সবসময় মাঠে থেকেছি, কাজ করেছি। দলের প্রতি আশাবাদ আমার অনেক বেশি। আমার মূল্যায়ন করবেন সভানেত্রী।
মনোনয়নপ্রত্যাশী সালেহা মোশাররফ বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। তার প্রয়াত স্বামী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তার মৃত্যুর পর ওই আসনে উপনির্বাচনে তার সহধর্মিণী সালেহা মোশাররফ নির্বাচিত হন। পরে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সদরপুর ও চরভদ্রাসনের সঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলাজুড়ে দিয়ে ফরিদপুর-৪ ও ৫_ দুটি আসন মিলিয়ে বর্তমানের ফরিদপুর-৪ আসন গঠন করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর সহধর্মিণী নিলুফার জাফরউল্যাহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর সালেহা মোশাররফ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হন।
কাজী জাফরউল্যাহ নবম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তার সহধর্মিণী স্থপতি কাজী নিলুফার জাফরউল্যাহ দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন। সদ্যসমাপ্ত দশম সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাজী জাফরউল্যাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর কাছে হেরে যান। এ অবস্থায় তার সহধর্মিণী নিলুফার জাফরউল্যাহ সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দীপক মজুমদার বলেন, নিলুফার জাফরউল্যাহ মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
হাসিনা ইমরান চৌধুরীর পরিবার জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে আশির দশক থেকে জড়িত। তার স্বামী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে তার মৃত্যুর পর স্ত্রী হাসিনা ইমরান চৌধুরী ফরিদপুরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে আগলে রেখেছেন।
তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াহিয়া বলেন, পদ্মার এপাড়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য
বৃহত্তর ফরিদপুর থেকে একমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসিনা ইমরান চৌধুরী।