সিলেটে ডিজেল সংকট

বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

সিলেট ব্যুরো
ভরা সেচ মৌসুমে সিলেটে আকস্মিকভাবে ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় বারবার যোগাযোগ করেও জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না পেট্রোল পাম্প মালিকরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যে সিলেটের অনেক পাম্পে ডিজেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেছেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ ছাড়া সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেল নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সিলেটের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কৃষকরা। আগামী দুই একদিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা না করা হলে বোরো চাষে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে রেলের তেলবাহী ওয়াগন সিলেটে আসতে পারছে না। সিলেট জেলায় ১৫ দিনে ৪৫ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সেভাবে ডিজেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ডিজেল সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে মেঘনা অয়েল কোম্পানির সিলেট জেলা মার্কেটিং অফিসার জামাল আবদুল নাসের সাংবাদিকদের জানান, রেলের ওয়াগন সংকটের কারণে কয়েকদিন ধরে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রেলের ইঞ্জিন ও জ্বালানিবাহী ওয়াগন বাড়ালে এ সংকট নিরসন হবে।
এ ব্যাপারে পদ্মা অয়েলের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে সিলেটে ১০ লাখ লিটারের মতো ডিজেল সংকট রয়েছে। ওয়াগন না আসায় এ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় নৌপথেও সিলেটে ডিজেল আনা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের সমকালকে বলেন, আমরা আগেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। প্রতি বছর এ সময় আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জ্বালানি তেলের সংকটের কবলে পড়তে হয়।
সিলেট রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মুহিবুর রহমান সমকালকে বলেন, ইঞ্জিন ও ওয়াগন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে ডিজেল আনা সম্ভব হচ্ছে না। দু'একদিনের মধ্যে জিজেলবাহী ওয়াগন সিলেট এসে পেঁৗছবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।