রাজশাহীতে জেলা পরিষদ প্রশাসক-উপজেলা চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব

ফেরত যেতে পারে উন্নয়ন প্রকল্পের ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

কাজী শাহেদ, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে জেলা পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বের কারণে ফেরত যেতে পারে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এক বছর ধরে জেলা পরিষদের সভায় উপস্থিত হন না উপজেলা চেয়ারম্যানরা। ফলে জেলা পরিষদ থেকে কোনো প্রকল্পও নেওয়া যাচ্ছে না উপজেলাগুলোতে। এখন পর্যন্ত এ দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়ায় কার্যত উপজেলাগুলোয় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নিতে পারছে না জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলু জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছেন। গত অর্থবছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এ বছরও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
উপজেলা চেয়ারম্যানদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মাহাবুব জামান ভুলু দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তিনি কোনো প্রকল্পই সঠিক নিয়মে শেষ করেননি। নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া অর্থ এবং নিজস্ব আয় থেকে পাওয়া অর্থে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে উপজেলা চেয়ারম্যানদের মতামত নিতে হবে। কিন্তু জেলা পরিষদের প্রশাসক সে নিয়মকে তোয়াক্কা না করে ইচ্ছা মতো উপজেলাগুলোয় প্রকল্প গ্রহণ করছেন। প্রকল্প পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জানান, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। ফলে জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮ জন চেয়ারম্যান এক বছর ধরে জেলা পরিষদের সভা বয়কট করে আসছেন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নয়-ছয় প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনও প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। ফলে ওই টাকা ফেরত যাওয়ার অবস্থায় চলে এসেছে।
চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদ অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের আওতায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া ২ কোটি ২০ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ বছরও কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। প্রকল্প নিতে না পারলেও দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা লুটপাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানদের মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসক তার ইচ্ছা মতো প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করায় এক বছর ধরে তারা আর কোনো সভায় যোগ দেননি। তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদ প্রশাসকের অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অবশ্য উপজেলা চেয়ারম্যানদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহাবুব জামান ভুলু। তিনি বলেন, 'প্রশাসক হিসেবে সুনামের সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি। জেলা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো অনিয়ম হয়নি। কিন্তু সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য ক'জন উপজেলা চেয়ারম্যান এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।'