যৌতুকের দাবিতে বরগুনায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

খুলনা ব্যুরো
যৌতুকের দাবিতে খুলনার মেয়ে শরীফা বেগমকে (২২) স্বামীর বাড়ি বরগুনায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার শরীফা আত্মহত্যা করেছে এমন সংবাদ পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা বরগুনা যান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শরীফার লাশ নিয়ে আসা হয় খুলনায়।
এ সময় নিহতের গলা, কোমর, পেট ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীফা খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া ঘোষের ভিটা এলাকার নূর মোহাম্মদের মেয়ে।
নিহতের ভাই ডালিম জানান, পারিবারিকভাবে ২০০১ সালে শরীফার বিয়ে হয় বরগুনা জেলার বেতাগী থানার চান্দখালী গ্রামের কামাল হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে কামাল-শরীফা দম্পতি খুলনায় থাকত। তাদের শান্তা (৮) ও তিষা (৫) নামের দুটি মেয়ে রয়েছে। দু'বছর আগে তারা বরগুনায় গ্রামের বাড়ি চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর যৌতুকের দাবিতে প্রায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা শরীফাকে নির্যাতন করত।
তিনি জানান, কয়েকদিন ধরেই জামাই টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শরীফা তার বাবাকে ফোন করে দ্রুাকা পাঠানোর অনুরোধ করে। মোবাইলে কথা বলার একপর্যায়ে শরীফা 'ও মারে, বাবা রে' বলে চিৎকার দেয়। কিছুক্ষরই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামাই কামাল ফোন করে জানায়, শরীফা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তারা দ্রুত বরগুনার বেতাগী গ্রামে যান। সেখানে শরীফাকে কবর দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। অনেক অনুরোধের পর তারা লাশ খুলনায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার সকালে লাশ গোসল করানোর সময় দেখতে পান শরীফার পেট ও পিঠ সম্পূর্ণ কাটা। গলার চামড়া নাইলনের সুতা দিয়ে বুকের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলনা সদর থানা পুলিশের এএসআই ওয়াজেদ কুমার সরকার বলেন, শরীফা বরগুনাতে মারা গেছে। লাশ দেখে মনে হচ্ছে, তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।