দুর্গত এলাকায় মিলবে নিরাপদ পানি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

রুবেল খান, চট্টগ্রাম ব্যুরো

দুর্গত এলাকায় মিলবে নিরাপদ পানি

চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানবাজার এলাকায় সোমবার মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করা হয় মো. রাশেদ

মহাপ্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যাকবলিত দুর্গত এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দেয় খাবার পানির। জীবন বাঁচাতে তখন জরুরি প্রয়োজন নিরাপদ সুপেয় পানি। নিরাপদ খাবার পানির অভাবে দুর্গত এলাকাবাসীকে পড়তে হয় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর এ বিষয়টি অনুধাবন করে তৎকালীন সরকার উপকূলীয় ১৬টি জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প গ্রহণ করে। ওই প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংযোজন করা হয়েছে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় দ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহ করা যাবে। এখন দুর্গত এলাকায়ও মিলবে নিরাপদ পানি!
এ প্রসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ও সিডর আক্রান্ত উপকূলীয় এলাকায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তা রশিদুল হক সমকালকে বলেন, 'কোনো এলাকায় দুর্যোগ হলেই দেখা দেয় খাবার পানির চরম সংকট। এই দুর্গত এলাকায় দ্রুত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১৬টি উপকূলীয় জেলার জন্য আটটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দেওয়া হচ্ছে। এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পুকুরের পানিও অনায়াসে খাওয়া যাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি সংযোজন হওয়ায় দুর্গত এলাকায় আর নিরাপদ খাবার পানি নিয়ে ভাবনা থাকবে না।'
১৬টি উপকূলীয় জেলার জন্য যে আটটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটির দাম ৭০ লাখ টাকা। তিন টনের মিনি ট্রাকের ওপর স্থাপিত এই মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হওয়ায় দুর্গত এলাকার যে কোনো জায়গায় এটি নিয়ে পেঁৗছানো সম্ভব। এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার লিটার নিরাপদ খাবার পানি উৎপাদন করা যায়। এতে প্রতি লিটার নিরাপদ পানি উৎপাদনে খরচ হয় মাত্র এক টাকা। এ ছাড়া এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানির লবণাক্ততা হ্রাস ও আর্সেনিকমুক্ত করা যায়। এই আটটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পাশাপাশি তিন কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি তিন টনের ওয়াটার ক্যারিয়ারও যুক্ত হচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। এই ওয়াটার ক্যারিয়ারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ খাবার পানি পেঁৗছে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলার জন্য তিনটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সরবরাহ করা হয়েছে।
গত শনিবার চট্টগ্রামে এই মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বজলুল হক, মো. জহির উদ্দিন দেওয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
দাতা সংস্থা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘূর্ণিঝড় ও সিডর আক্রান্ত উপকূলীয় এলাকায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও ওয়াটার ক্যারিয়ার সরবরাহ ছাড়াও কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ১৬টি উপকূলীয় জেলা এবং ১২০টি উপজেলায় সাত হাজার ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে ১০টি আর্সেনিক মেডিকেশন ইউনিট ও ডিসস্যালাইনেশন প্লান্ট; ১০০টি পুকুর সংস্কার করা হয়েছে।