শুভ ও সজলের স্বপ্ন পূরণ হবে তো?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

কাজী আমিনুল ইসলাম, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর দুই অদম্য মেধাবী শুভ এবং সজল। ওরা স্বপ্ন দেখে বহুদূর যাওয়ার; কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা আর্থিক দৈন্য। জেলে পরিবারের ছেলে শুভ মালো এবং ভূমিহীন কৃষকের ছেলে মো. সজল শেখ পরের জমিতে দিনমজুরি করে নিজেদের পড়ার খরচ নিজেরাই জুগিয়েছে। ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েও এখন তারা হতাশায় মুষড়ে পড়েছে।
শুভ মালো : উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের নতুবদিয়া গ্রামের হারান মালো ও ফুলমালা মালোর একমাত্র ছেলে শুভ মালো
এবার এসএসসি পরীক্ষায় সালথার বিভাগদী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে। সে ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছিল। বাবা হারান মালোর নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। খালবিলে মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন; কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাছ ধরতে পারেন না। তাই নিজের লেখাপড়া ও সংসার চালাতে পরের জমিতে কামলা দেওয়া শুরু করে শুভ। মাঝেমধ্যে প্রাইভেটও পড়িয়েছে গ্রামে ঘুরে ঘুরে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি দুই শিক্ষক সুনীল কুমার বিশ্বাস ও স্বপন কুমার ভৌমিক সহযোগিতা করেছেন তাকে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে শুভ। কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে যাদের তিন বেলা খাবার জোটে না_ এ স্বপ্ন পূরণ করা কি তাদের পক্ষে সম্ভব? সম্ভব হতে পারে একটু সহযোগিতা পেলে।
মো. সজল শেখ : আরেক মেধাবী মো. সজল শেখ নিভৃত পল্লীতে বাস করে দেখেছে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের কষ্ট। তাই সে স্বপ্ন দেখে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার। সজল এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার গোহালবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে ঘোষপুর ইউনিয়নের চরদৈত্তেরকাঠি গ্রামের ভূমিহীন কৃষক মো. জাকির হোসেন ও গৃহিণী কোহিনুর বেগমের ছেলে। তার ছোট বোন শরীফা ওই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। সজল ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। সজলের পিতা জাকির হোসেন অন্যের জমি বর্গা চাষ আর দিনমজুরি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন। শিক্ষকদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত ছেলেকে পড়াতে পেরেছেন; কিন্তু উচ্চ শিক্ষার খরচ চালানো তার পক্ষে কোনো অবস্থায়ই সম্ভব নয়। তাই ছেলের ভবিষ্যতের জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।