জিগাতলায় সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

ঢাকা সিটি কলেজের বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলা হবে। গতকাল সোমবার বিকেলে তা নিয়েই আলোচনায় বসে শিক্ষার্থীরা। কলেজটির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আশদিন হকের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন তার ছোট ভাই আয়াজ হক। আলোচনার একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়ে তা সংঘর্ষে গড়ায়। রাজধানীর জিগাতলায় সিটি কলেজ এলাকায় দু'দল শিক্ষার্থীর এই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে করুণ মৃত্যু হয় ১৭ বছর বয়সী আয়াজ হকের। তাকে পেটানোর পাশাপাশি ছুরিকাঘাতও করা হয়েছিল। আয়াজ এ বছর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবারের সঙ্গে কলাবাগানের নর্থ সার্কুলার রোডের ৬৩/৪ নম্বর বাসায় থাকত আয়াজ। সদ্য এসএসসি পাস করা আয়াজ গতকাল বিকেলে অলস সময় কাটাচ্ছিল। তাই বড় ভাই আশদিন হক তার সঙ্গে যেতে বললে তখনই আয়াজ রাজি হয়। এর পর দুই ভাই একসঙ্গে যায় সিটি কলেজ এলাকায়। সেখানে বিকেল ৪টার দিকে কলেজের দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল খেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সহপাঠীদের সঙ্গে আশদিন সে আলোচনায় অংশ নিলে আয়াজও সেখানে বসে থাকে। একপর্যায়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দেয় মতবিরোধ। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। ক্রমে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দু'দল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলে পড়ে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে স্টার কাবাব রেস্তোরাঁর সামনে থেকে ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা এবং হ্যাপি আর্কেড সংলগ্ন এলাকায়। এরই মধ্যে জিগাতলা এলাকায় আয়াজকে প্রতিপক্ষ ভেবে একদল ছাত্র বেধড়ক পেটায়। তাদেরই কেউ আয়াজের পিঠে ছুরিকাঘাত করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আয়াজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা আইনজীবী শহীদুল হক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা ঠিক কী ঘটেছে, সেটা তার জানা নেই। তবে তার দুই ছেলে একসঙ্গে সিটি কলেজ এলাকায় গিয়েছিল। পরে কেউ আয়াজকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।
দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিল আয়াজ। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের থানাপাড়া এলাকায়। ধানমণ্ডি থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান বলেন, ফুটবল খেলার আয়োজনের জন্য কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে ছাত্ররা সমবেত হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওই স্কুলছাত্র নিহত হয়। নিহত আয়াজ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, না সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছে_ তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংঘর্ষে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু ছাত্রও জড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওসি।