ফরিদপুরে আলোচিত চাঁপা রানী হত্যায় বখাটে রনির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর

মধুখালীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চাঁপা রানী হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি দেবাশীষ সাহা রনিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় দেন। মামলার অপর দুই আসামি আলমগীর ও অপুকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। তবে প্রধান আসামি রনি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন বিচারক।
রায়ে বলা হয়েছে, পলাতক রনিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হবে। এ ছাড়া রনির জব্দকৃত মালামাল রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, চাঁপা রানীর মেয়ে মধুখালীর চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়ত। বিভিন্ন সময়ে তাকে উত্ত্যক্ত করত ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী রতন সাহার ছেলে রনি। বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মঞ্জুকে জানালে বখাটে রনি চাঁপা রানীর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই জের ধরে ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে উপজেলার খাদ্যগুদামের সামনের সড়কে চাঁপা রানীকে মোটরসাইকেলে চাপা দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এর পর হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই অরুণ ভৌমিক। খুনি রনির গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয় ফরিদপুরসহ সারাদেশে। চাঁপা রানীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি ছুটে যান মধুখালীতে। এ ঘটনার পর ৩১ অক্টোবর ঝিনাইদহ শহর থেকে রনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পুলিশ রনিকে প্রধান আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১২ সালের ৮ জুলাই রনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
চাঁপা রানীর স্বামী স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, 'আমি এ রায়ে খুশি। আমি যে ন্যায়বিচার চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। দেশের আইন এখনও যে গরিবদের জন্য আছে, এ রায়ের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ হলো।' তিনি পলাতক রনিকে দ্রুত গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।