সাতছড়িতে বিমানবিধ্বংসী কামানের গোলাসহ আরও গোলাবারুদ উদ্ধার

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ও মাধবপুর প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের সাতছড়ির গহিন অরণ্যে নতুন একটি বাঙ্কারে অভিযান চালিয়ে বিমানবিধ্বংসী কামানের আরও গোলা ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র‌্যাবের একটি দল সাতছড়ি পাহাড়ের লালটিলা এলাকায় সন্দেহভাজন সাতটি স্থানে অভিযানের পর মাটি খুঁড়ে এসব গোলাবারুদের সন্ধান পাওয়া যায়।
গতকালের অভিযান শেষে দুপুরে র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক মুফতি মাহমুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ধারাবাহিক অভিযানের সপ্তম দিনে বিভিন্ন টিলার সন্দেহজনক সাতটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে একটি বাঙ্কার থেকে একটি মেশিনগানের ব্যারেল, বিমানবিধংসী ৫৪ (১২.৭) এমএম গোলা ও চায়নিজ রাইফেলের ৬৩৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে এসব অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন টিলায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যতদিন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধার হবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। গত ১ জুন থেকে এ অভিযান শুরু হয়। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, ১ জুন থেকে জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন টিলায় শুরু হওয়া অভিযানে পাহাড়ের সাতটি গর্ত থেকে বিপুল পরিমাণ রকেট লঞ্চার, কামানবিধ্বংসী রকেট, রকেট চার্জার, মেশিনগান, মেশিনগানের ব্যারেল, প্রায় ১২ হাজার রাউন্ড এমএম গুলি, সমরাস্ত্র পরিষ্কারের অয়েল ও সমরাস্ত্র পরিষ্কারের ইকুইপমেন্টসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিভিন্ন প্রকাশনা ও ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি বাঙ্কারের কাছ থেকে ত্রিপুরা পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (টিপিডিএফ) লিফলেট, পার্টি মেম্বারশিপ ফরমসহ অন্তত অর্ধশতাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়। এদিকে, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্র উদ্ধারের পর থেকে সাতছড়ির ত্রিপুরাপল্লী পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পল্লীতে নারী ও শিশুরা ছাড়া কোনো বৃদ্ধ পুরুষকে দেখা যায় না। দিন-রাত ঘরের দুয়ার পর্যন্তও বন্ধ রাখা হচ্ছে ত্রিপুরাপল্লীতে। তাদের বসতির পাশে অরণ্যে এত অস্ত্রের বিষয়েও বিপদ হতে পারে_ এমন আশঙ্কায় তারা মুখ খুলছেন না। কয়েক দিন ধরে সাতছড়ির উদ্যানে পর্যটকদের আনাগোনাও কমে গেছে।