কোনো বাধা মানবো না

চাউলিয়া গ্রামের ৩ মেধাবী ঝরে যাবে না তো!

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

যশোর অফিস

মনিরা, সাবিহা ও আম্বিয়া। এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার আনন্দও ম্লান হতে বসেছে তাদের। উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ সাফল্য পেলেও তাদের উচ্চশিক্ষার পথ বাতলে দেওয়ার সঙ্গতি নেই পরিবারের। তাহলে কি দারিদ্র্যের জালে বন্দি হয়ে ঝরে যাবে মেধাবী মুখগুলো? যশোর সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চাউলিয়ার দিনমজুর হাফিজুর রহমানের মেয়ে মনিরা এবং যমজ বোন সাবিহা ও আম্বিয়া দরিদ্র কৃষক আবদুল মজিদের মেয়ে।
চাউলিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আবদুল মজিদের যমজ মেয়ে সাবিহা খাতুন ও আম্বিয়া খাতুন এ বছর রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে উচ্চ মাধ্যমিকে এ সাফল্য পেলেও পরবর্তী পথের কোনো দিশা তাদের জানা নেই। জিপিএ ৫ প্রাপ্তির খুশি তাই দিন দিন মলিন হতে বসেছে।
সাবিহা ও আম্বিয়া জানান, প্রান্তিক কৃষক পরিবারে তারা ছয় ভাইবোন। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে চলে তাদের সংসার। মা-বাবার সঙ্গতি নেই তাদের লেখাপড়া করানোর। তার পরও তারা দুই বোন কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় সংগ্রাম করে এইচএসসি পাস করেছেন। এখন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী।
বাবা আবদুল মজিদ জানান, তার দুই মেয়ের এ সাফল্যে পরিবারসহ এলাকাবাসীও আনন্দিত। এখন সাবিহা ও আম্বিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও কীভাবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন, তা জানেন না তিনি।
মনিরা খাতুন যশোর সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চাউলিয়ার দিনমজুর হাফিজুর রহমানের মেয়ে। বাবার মাটির ঘর আলো করে রূপদিয়ার শহীদ স্মৃতি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
মনিরা জানান, প্রতিদিন দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে তিনি লেখাপড়া চালিয়েছেন। দিনমজুর বাবার উপার্জনে চলে তাদের পাঁচ সদস্যের পরিবার। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়ারও সুযোগ হয়নি।
শিক্ষকদের সহযোগিতা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় তাকে এইচএসসিতে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দিয়েছে।
মনিরার মা হালিমা খাতুন জানান, টাকার অভাবে বড় মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। মনিরার লেখাপড়া করার খুব ইচ্ছা। কিন্তু টানাটানির সংসারে তাকে আর পড়াতে পারবেন কি-না জানেন না। বড় মেয়ের মতো ওকেও বিয়ে দিয়ে দিতে হয় কি-না, সে চিন্তায় রাতে তার ঘুম হয় না।
মনিরা জানান, তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু কীভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষ হবে, তা জানেন না মনিরা।
রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ আইয়ুব হোসেন জানান, কঠোর সংগ্রাম করে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হলেও মনিরা, সাবিহা ও আম্বিয়ার উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত। কারণ, গ্রামের কলেজেই তাদের লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো তাদের মা-বাবার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষানুরাগী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলেই তাদের স্বপ্নপূরণ সম্ভব।