সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রদের উঠতে দেয়নি পুলিশ, তদন্তে কমিটি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

ফরহান অভি, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) রোববার রাতে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর সোহরাওয়ার্দী হল নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংঘর্ষের পর তল্লাশি শেষে এ হলে অবস্থান করছে এখন পুলিশ! উঠতে দেওয়া হয়নি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের। হলটি কি খুলে দেওয়া হবে নাকি বন্ধ ঘোষণা করা হবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংঘর্ষে কেউ হতাহত না হলেও ঘটনা তদন্তে গতকাল সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ১৪ প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ। থমথমে পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। শিবির আর ছাত্রলীগ আতঙ্কে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে ভুতুরে অবস্থা।
গত ১২ জানুয়ারি শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষের ঘটনায় এক শিবির নেতা নিহত হওয়ায় আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শাহ আমানত হল।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ সমকালকে বলেন, 'সোহরাওয়ার্দী হল নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে হলটি খুলে দেওয়া হবে, নাকি বন্ধ করে দেওয়া হবে।'
চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, 'ক্যাম্পাস পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।' হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইসমাইল জানান, হল থেকে পেট্রোল বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
গত রোববার কথা কাটাকাটির জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে শিবির-ছাত্রলীগ গোলাগুলি হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। রাতে শিবির নিয়ন্ত্রিত এ হলটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৩টি পেট্রোল বোমা ও একটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বের হয়ে যান শিক্ষার্থীরা। রাতে এ হলে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। সকালে আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ ও হল প্রশাসন। মৌখিকভাবে তাদের হল ছেড়ে চলে যেতে বলেন হলের প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকরা। একপর্যায়ে আইডি কার্ড দেখে শিক্ষার্থীদের হলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ব্যাগ নিয়ে হল ছেড়ে চলে যান। এ সময় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় শামসুন্নাহার হল প্রভোস্ট মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন_ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোরশেদুল ইসলাম ও ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শাহ আলম। এদিকে ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় হল ছেড়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। অনুষ্ঠিত হয়নি বেশিরভাগ ক্লাস। থমথমে পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস ছিল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। তারা সোহরাওয়ার্দী হলসহ বিশ্ববিদ্যালয় সকল হলের শিবিরের জন্য বরাদ্দকৃত আসন বাতিলের দাবি জানায়। তবে শিবিরের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।