সিলেটে টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগ আবার বেপরোয়া

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

মুকিত রহমানী, সিলেট ব্যুরো

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। বিশাল ও সবুজ ক্যাম্পাস প্রতি বছরই আকর্ষণ করে শত শত শিক্ষার্থীকে। অথচ এর প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কলেজ পার্শ্ববর্তী টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগ। একটি গ্রুপের কারণে বার বার যেমন ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হয়ে উঠে তেমনি টিলাগড় এলাকাও। কতিপয় ছাত্রলীগ কর্মীর কারণে একদিকে শিক্ষার্থীরা ভুগেন অস্থিরতায়, অন্যদিকে টিলাগড়ের ব্যবসায়ীরা থাকেন আতঙ্কে।
সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সিলেট ছাত্রলীগ সারা বছরে যে পরিমাণ অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয় তার অধিকাংশ ঘটে টিলাগড় কেন্দ্রিক। সর্বশেষ গতকাল সোমবারও ছাত্রলীগের আজাদ-রণজিত গ্রুপখ্যাত দুটি গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় গ্রুপের একাংশ কলেজে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রমে বাধা দেয়। যদিও কয়েকদিন ধরে টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগ পছন্দের তালিকা অনুযায়ী ছাত্রভর্তির চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় গতকাল থেকেই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন। তবে কর্তৃপক্ষের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার ও যুবলীগ নেতা সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান। যা আজাদ-রণজিত গ্রুপ হিসেবে পরিচিত। তাদের কারণে মূলধারার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিব্রত। টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগ এখন সিলেট ছাত্রলীগের বিষফোঁড়া। গ্রুপ ও উপগ্রুপের কারণে ছাত্রলীগে ক্ষতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে ওই নেতারা মন্তব্য করেন।
সূত্র মতে, এমসি কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তির জন্য রিলিজ স্লিপ নিয়ে মাসখানেক আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি আবেদন করেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী। যাচাই-বাছাই শেষে গত সপ্তাহ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়। আজাদ- রণজিত গ্রুপের অনুসারী কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভর্তিবাণিজ্য করতে নিজেদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার ছিল ভর্তির শেষ তারিখ। সর্বশেষ ছাত্রলীগের বাধার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তি হতে পারেননি। এ অবস্থায় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কামাল জানান। ভর্তি নিয়ে কয়েকদিন থেকে টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের গ্রুপ-উপগ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল দুপুরে ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভকে টিলাগড়ের গোপালটিলায় ধরে আনতে যায় সাইদুর, টিটুসহ কয়েকজন।
মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত তরফদার সমকালকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অভাব থেকে এ সব হচ্ছে।