পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ

ইবি বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ, তদন্তে কমিটি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ দিনের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। রোববার রাতে এক জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের জন্য বলা হলে তারা নির্ধারিত সময়ে হলত্যাগ করেন। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. টিএম লোকমান হাকিমকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল হোছাইন ও আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী। তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার রাতে উপাচার্যের বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। বৈঠকটি রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ১১টায়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ২৫ আগস্ট (গতকাল সোমবার) থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা,
একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৯ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, 'ক্যাম্পাসের উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
হঠাৎ ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগে বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। হঠাৎ ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থগিত পরীক্ষাগুলো ক্যাম্পাস খোলার পর অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এসব বিভাগে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েন। একই সঙ্গে সব হলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করায় তারা চরম পরিবহন সংকটে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ঈদুল আযহা উপলক্ষে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। এই ছুটির আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবার ১৫ দিনের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিল।
এদিকে উপাচার্যের পিএস মীর জিল্লুর রহমান সমকালকে জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী সকালে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী স্থানীয় ও বহিরাগতদের নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, রোববার ক্যাম্পাসে শিবির মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ এর প্রতিবাদে পাল্টা মিছিল বের করে। পরে তারা ভিসি ও প্রো-ভিসির গাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের ৬ সদস্য আহত ও ছাত্রলীগের ৫ কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন অন্তত ২০ জন।