কসাই সিরাজ, লতিফ ও আকরামের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজ, আবদুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগের তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল সোমবার বিকেলে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পক্ষে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আকারে জমা দেওয়া হবে বলে প্রসিকিউটর সুমন সমকালকে জানান।
এর আগে গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাননান খান রাজধানীর ধানম িতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল
হক ওরফে কসাই সিরাজ, আবদুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে নয়টি খণ্ডে ৮৪৪ পৃষ্ঠার নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ জন্য ৬৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি তারা গ্রহণ করেছেন। এ সময় তদন্ত সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়ক সানাউল হক ও তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাগেরহাটের কচুয়ার শাঁখারীকাঠি বাজারে ৪২ জনকে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগি্নসংযোসহ ছয়টি অভিযোগে ২০০৯ সালে সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। রঘুদত্তকাঠি গ্রামের শহীদ জিতেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে নিমাইচন্দ্র দাস কচুয়া থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১০ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পর পুলিশ তাদেরকে পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। বর্তমানে তারা কারাগারে।
সুবহান :একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী মো. খোরশেদ আলমকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২-এ গতকাল সাক্ষীকে জেরা করেন সুবহানের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার পরবর্তী ২৪তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।