সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন

যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা করা হবে

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সাইফ পাওয়ার টেককে আবারও 'মাফিয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের কাছ থেকে যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বন্দর রক্ষা পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার বন্দর ভবনের সামনে শ্রমিক-জনতার সমাবেশ করার ঘোষণা দেন এবং এ সমাবেশ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাইফ পাওয়ার টেককে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'বন্দরকে জিম্মি করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুক্তিভঙ্গ করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাই তাদের জিম্মিদশা থেকে বন্দরকে রক্ষা করতে হবে।'
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সাইফ পাওয়ার টেকের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ও এর কারণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্য, কেবিনেট সচিব, মুখ্য সচিব ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।'
মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'সাইফ পাওয়ার টেক বন্দরকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। এ চক্রের হাত থেকে আমি বন্দরকে রক্ষা করতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাসদ নেতা ইন্দুনন্দন দত্ত, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দিন, বার্থ অপারেটর অ্যান্ড শিপ হ্যান্ডলিং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এমএ বক্কর ও বন্দর সিবিএ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন। এ সময় বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মহিউদ্দিন চৌধুরী সাইফ পাওয়ার টেকের অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আট বছর পরও পুরোদমে চালু হয়নি। এ প্রতিষ্ঠান কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই ২০০৭ সালের ১৬ মে ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডের ভিত্তিতে এনসিটি পরিচালনার কাজ বাগিয়ে নেয়। স্টিভেডোরিং ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলেও সিসিটি এবং এনসিটিকে সিসিটির বর্ধিতাংশ ঘোষণা করে অবৈধভাবে বার্থ অপারেটিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিসিটি পরিচালনায় গত বছরের ৩১ মার্চ করা নতুন যন্ত্রপাতি কিনে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও সাইফ পাওয়ার টেক তা করেনি। ঢাকা আইসিডিতে প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধভাবে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।