ফরিদপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

ফরিদপুর অফিস

সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে নটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সায়েবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই স্কুলেরই তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার সকালে স্কুলের শ্রেণীকক্ষের ভেতর প্রাইভেট পড়ানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সোমবার দুপুরে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীকে থানায় নিয়ে আসে। তবে ঘটনা নিয়ে স্থানীয় মাতবররা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সালিশ বাণিজ্যে। স্কুলছাত্রীর মা জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তার মেয়ে স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়া শেষে শিক্ষক সায়েবুল তাকে একটি শ্রেণীকক্ষের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্কুলের অন্য ছাত্রছাত্রীরা বিষয়টি টের পেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন, হৃদয়, সেলিম, আলী ও জিহাদ জানায়, রোববার সকালে তারা সবাই একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ে। পড়া শেষে ওই ছাত্রীকে হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরতে দেখে। পরে ছাত্রীর মা স্কুলে এসে অন্য শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনা নিয়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় মাতবররা শিক্ষক সায়েবুলকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। সোমবার সকালে স্থানীয় কিছু লোক নতুন করে এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজিত হলে এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে সালথা থানার ওসি (ডিএম) বেলায়েত হোসেন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রীকে থানায় নিয়ে আসেন।
অন্যদিকে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুঞ্জু মাতুব্বর ও প্রধান শিক্ষক খশবু বেগম জানান, গত বুধবার রাতে স্কুলের চারটি ভ্যান চুরি হয়। এ ঘটনা নিয়ে প্রধান শিক্ষক গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন। এর পর এ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে শিক্ষক সায়েবুলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে একটি মহল।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু আহাদ মিয়া বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনা সত্যি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা থানার সেকেন্ড অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এখনও এ ঘটনার কিছু বুঝতে পারছি না। তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই স্কুলের ভ্যান চুরির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক থানায় একটি জিডি করেন।