রাজশাহী রেলস্টেশনে বাস শ্রমিকদের হামলা-ভাংচুর

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

রাজশাহী ব্যুরো

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে রেল পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর এবং স্টেশনের প্রধান ফটক ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রেল পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, হামলাকারীরা স্টেশন এলাকার আশপাশের বাস শ্রমিক। বাস শ্রমিক রমজানের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। তাদের হামলা ও ভাংচুর ঠেকাতে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন রেল পুলিশের সদস্যরা। হামলায় চারজন রেল নিরাপত্তাকর্মী ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে রেল নিরাপত্তাকর্মী কাওসারকে ২০-২৫ জন মিলে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন নিরাপত্তাকর্মী রাসেল, জহুরুল ও সায়েম। এ সময় রেল পুলিশের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে বাস শ্রমিকরা। তাদের ছোড়া ঢিলের আঘাতে আহত হন রেল পুলিশের উপপরিদর্শক সাহাবুল ও হাসিবুল এবং কনস্টেবল বাদশা মিয়া।
তিতুমীর ট্রেনের নিরাপত্তাকর্মী কাওসার জানান, তিনি রাত ৩টার দিকে ট্রেনটিকে ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, স্টেশনের পাশের এলাকা শিরোইল কলোনির চার-পাঁচজন মুখচেনা বাস শ্রমিক ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসে মাদক সেবন করছে। তিনি তাদের স্টেশনে মাদক সেবন করতে বাধা দিলে এবং গভীর রাতে স্টেশনে না থাকার জন্য বললে তাকে মারধরের হুমকি দেয় তারা। এ সময় খবর দেওয়া হলে রেল পুলিশের সদস্যরা এসে ওই মাদকসেবী বাস শ্রমিকদের স্টেশন থেকে সরিয়ে দেয়।
কাওসার জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে রাতের ওই মাদকসেবীরাসহ ২০-২৫ জন মিলে স্টেশনে এসে হামলা চালায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিরোইল কলোনির ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টিটোর ভাগ্নে রমজান ওই হামলায় নেতৃত্ব দেয়। রমজান স্টেশনের পাশেই অবস্থিত রাজশাহীর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ডাকার (কলার বয়) কাজ করে। রাতে স্টেশনে কয়েকজন সঙ্গী মিলে মাদক সেবন করায় ওই রমজানকেই সরিয়ে দেন পুলিশ ও রেল নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে গতকাল সকালে রমজানের নেতৃত্বে স্টেশনে হামলা চালানো হয়। রাজশাহী স্টেশনের রেল নিরাপত্তা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হামলাকারীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ মামলা করবে।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক আফজাল হোসেন জানান, গভীর রাতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে তারাই আবার নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে রেল পুলিশের সদস্যরা তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ব্যাপারে দূরপাল্লার বাস বুকিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে বাসের বুকিং দিয়ে ফিরতে তাদের সদস্যদের দেরি হয়। রাতে তাদের এক সদস্যকে বাড়ি ফেরার সময় মারধর করা হয়। সকালে তাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিলসহ কয়েকজন এ ব্যাপারে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে যান।
.এ সময় ভুল বোঝাবুঝি থেকে গণ্ডগোল হয়েছে। তারা বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। সংগঠনের সদস্যদের মাদক সেবনের কথা অস্বীকার করেন তিনি।
১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য নূরুজ্জামান টিটোর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আবদুল আউয়াল ভূঞা জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট (পাকশী) আশাবুল ইসলামকে এ তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন পশ্চিম রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এবং রাজশাহীর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আ খ ম মহিউদ্দিন।
জিআরপি থানার ওসি সুনীল কুমার ঘোষ গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানান, এ ঘটনায় রেলের নিরাপত্তাকর্মীরা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সন্ধ্যার দিকে মামলা দায়ের হতে পারে।