বিসিআইসির অনিয়মে ক্ষোভ সংসদীয় কমিটির

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

চুরি, আত্মসাৎ, ঘাটতি, অপচয়, আর্থিক বিধি অনুসরণ না করা ও অর্থ আদায়ে ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তিন হাজার ১২৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার অডিট আপত্তির সন্তোষজনক জবাব সংসদীয় কমিটিকে দিতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছর থেকে ২০১০-১১ অর্থবছর পর্যন্ত অডিট আপত্তি ছাড়াও বৈঠকে বিসিআইসির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, বিপুল পরিমাণ এ অর্থসংশ্লিষ্ট অডিট আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে না পারায় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। কীভাবে এ অর্থের অপচয় হলো তা জানতে চাওয়া হলে বিসিআইসি বলেছে, এই মুহূর্তে তাদের প্রস্তুতি নেই। তিনি বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিটি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিসিআইসি এর ব্যাখ্যা দেবে বলেও জানান তিনি। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১০-১১ অর্থবছর পর্যন্ত অডিট আপত্তির মধ্যে ৬৪টির ক্ষেত্রে আর্থিক বিধি অনুসরণ করা হয়নি। আর চুরি, আত্মসাৎ, ঘাটতি, অপচয়সহ অন্যান্য কারণে অডিট আপত্তির সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪। এসব অডিট আপত্তির বেশিরভাগই অনিষ্পন্ন রয়েছে।
এর মধ্যে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। ওই সময়ের ২৫৬টি অডিট আপত্তির সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১৭৭ কোটি ৭৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুই অর্থবছর ২০০৯-১০ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট ৪৮৭টি অডিট আপত্তির সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৯৬০ কোটি ৮২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২০০৬ সালের আগে ৫ বছরের বেশি অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির সংখ্যা ১ হাজার ৩০৯। এর সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৭৭৩ কোটি ৩৬ লাখ ১১ হাজার টাকা।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ছাতক সিমেন্ট কারখানাকে লাভজনক করতে কারখানা আধুনিকীকরণসহ সব রকম ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়াও বিসিআইসিসহ সব প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মালে ছাতক সিমেন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।