দুই মাসে দেশের সব রুটে ফ্লাইট চালু করবে বিমান

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে দুই মাসের মধ্যে ফ্লাইট চালু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গতকাল সোমবার সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়। গত ডিসেম্বরে এসব রুটে বিমান চালুর পরিকল্পনা থাকলেও, তা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। এবার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে এবং এর প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বিমানের পক্ষ থেকে কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সব রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। সাবেক বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে। মূলত ছোট এয়ারক্রাফট না পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল রাখা যাচ্ছিল না।
বৈঠকে জানানো হয়, উড়োজাহাজের অভাবে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটগুলো বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে।
সর্বশেষ ২০১১ সালে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমান ছাড়াও দেশের তিনটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালিয়ে এলেও তাদের সেবার মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
অলাভজনক ফ্রাঙ্কফুর্ট রুট চালুর জন্য দায়ী সাবেক এমডি : এদিকে লোকসানে থাকা ঢাকা-ফ্রাঙ্কফুর্ট রুটের জন্য বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেভিন স্টিলকে দায়ী করেছেন বিমানের কর্মকর্তারা। তবে তাদের জবাব আমলে নেননি কমিটির সদস্যরা। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে লোকসানে থাকা এ রুটটি চালু রাখার প্রয়োজনীতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ সময় বিমানের কর্মকর্তারা জানান, সাবেক এমডি কেভিন স্টিল পর্যাপ্ত পর্যালোচনা না করেই রুটটি চালু করেন।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, তানভীর ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল আশরাফ খান এবং মো. আফতাব উদ্দীন সরকার অংশ নেন।