ইবোলা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) 'ইবোলা ভাইরাস আতঙ্ক :আমরা কতটুকু প্রস্তুত' শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তারা এ পরামর্শ দেন।
বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ইবোলা ভাইরাস বিষয়ে আমরা সচেতন আছি, প্রস্তুতও রয়েছি। এ রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইবোলা ভাইরাস রোগী থেকে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য মানুষের মধ্যে খুব সহজে বিস্তার লাভ করে। তাই নমুনা সংগ্রহ ও গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম মুসতাক হোসেন বলেন, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণরোধী ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করেছি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। কারও শরীরে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেলে আইইডিসিআরকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে কমপক্ষে ৩০ প্রকারের ভাইরাসের সঙ্গে মানুষকে লড়াই করতে হচ্ছে। এদের মধ্যে ডেঙ্গু ছাড়া সবটির উৎস জন্তু-জানোয়ার। ইবোলার প্রধান উৎস শিম্পাঞ্জি ও গরিলা। বাদুড়ের শরীরে ইবোলার উপস্থিতি থাকলেও সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় বন্য জন্তু শিকার করে খাওয়া হয়। মানবদেহে সংক্রমণ ঘটলে হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, দুর্বলতা, মাংসপেশিতে যন্ত্রণা, গলাব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, মাথাব্যথা ও রক্তক্ষরণ হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইবোলা সংক্রমণে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৬১৫ এবং মৃতের সংখ্যা ৪২৭।
সেমিনারে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন মিয়া, অধ্যাপক শাহিনা তাবাসুম, অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, অধ্যাপক আবু সফি আহমেদ আমিন, অধ্যাপক ডা. শাহানা আখতার রহমান প্রমুখ।