বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত অবসরে গেলেন। গতকাল সোমবার তিনি বিএসএমএমইউ থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। এখনও তার প্রায় চার বছর চাকরির মেয়াদ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সমকালকে বলেন, দুই মেয়াদে টানা ছয় বছর বিএসএমএমইউতে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আর নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগে ফিরতে চাননি বলেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০০৯ সালের ২৫ মার্চ বিএসএমএমইউর নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে তিন বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর পর টানা দুই মেয়াদে ছয় বছর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে
গত ২৪ মার্চ তার মেয়াদ শেষ হয়। ওই দিনই তিনি নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে দুই মাসের ছুটিতে যান। ছুটি শেষে ইএনটি বিভাগে না ফিরে গতকাল প্রখ্যাত এই চিকিৎসক স্বেচ্ছায় অবসরে গেলেন।
ডা. প্রাণ গোলাপ দত্ত ১৯৭৭ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এর পর বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পর্যায়ক্রমে সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি তৎকালীন পিজি হাসপাতাল ও পরে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএনটি বিভাগে অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এবং সর্বশেষ উপাচার্য হিসেবে দুই মেয়াদে টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের সফলতা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ছয় বছরে এক মিনিটের জন্যও চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ ধর্মঘটে যাননি। আইনি প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ বিঘা জমি ফেরত পেয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি কাজ করেছেন বলে জানান।

মন্তব্য করুন