ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

দীপন নন্দী

বেইলি রোডের নাম বদলে নাটক সরণি করা হয়েছে বেশ আগেই। তবু সবাই একে বেইলি রোড বলেই চেনে, জানে। এক সময় নাট্যকর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও পরে এলাকাটি পরিচিতি লাভ করে দেশীয় শাড়ির জন্য। তবে রমজান মাসে বেইলি রোড বেশ আলোচিত থাকে ইফতার সামগ্রীর বাজারের জন্য। ঐতিহ্যবাহী ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে আধুনিক সব খাবারের মিশেলে জমজমাট ইফতারির বাজার বসেছে এ এলাকায়। প্রথম রমজান থেকেই রোজাদাররা ভিড় করছেন বেইলি রোডে। প্রিয় খাবার কিনে ঘরে ফিরে প্রিয়জনের সঙ্গে সারছেন ইফতার। আর যারা কেনাকাটা করতে বেইলি রোডের বিপণিবিতান আর বুটিক হাউসগুলোতে আসেন, তারা প্যাকেট কিনে ঝটপট সেরে নিচ্ছেন ইফতার।
সকালের বৃষ্টি শেষে গতকাল শনিবার বিকেলের আবহাওয়া ছিল বেশ সহনীয়। ফলে বিকেলে বিপণিবিতান আর বুটিক হাউসগুলোর পাশাপাশি ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ভিড় জমতে থাকে। দোকানগুলোর দিকে তাকাতেই দেখা যায়, রসনাবিলাসী নানা ধরন ও স্বাদের ইফতার সামগ্রী থরে থরে সাজানো। ক্রেতার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ক্রেতা আর বিক্রেতার কথোপকথনে গমগম পুরো এলাকা।
শান্তিবাগের বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা আল ইমরান এসেছিলেন ছেলে রাজিনকে নিয়ে। তিনি বলেন, শুক্রবার বাসাতেই ইফতার সেরেছেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বেইলি রোড থেকে ইফতারি কিনতে এসেছেন তিনি।
সেগুনবাগিচার মাসুদুল হক বলেন, বেইলি রোডের ইফতার সামগ্রী চকবাজারের মতোই। সেইসঙ্গে অনেক আধুনিক খাবারও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশ্রণে দারুণ আয়োজন।
কী নেই বেইলি রোডের ইফতারিতে? পিঁয়াজু, আলুর চপ,
বেগুনি, ছোলা, মুড়ির পাশাপাশি নানা ধরন আর নামের পরোটা। আছে নানা ধরনের নান, স্পেশাল চিকেন রোল, গরুর জালি কাবাব, শিক কাবাব, চিকেন রেশমি কাবাব, সাসলিক, চিকেন ঝাল ফ্রাই, গরুর কালা ভুনা, খাসির রেজালা, খাসির লেগ রোস্ট, গরুর তেহারি, মোরগ পোলাও, হালিমসহ নানা খাবার। মুরগি, খাসি আর গরুর হালিম কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন বেশ। হালিম পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে। ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বোম্বে জিলাপি, রেশমি জিলাপি, জাফরান জিলাপি, আজমেরি জিলাপিসহ নানা আকারের জিলাপি মিলছে এখানে।
বেইলি রোডে ইফতারির সবচেয়ে বড় আয়োজন ক্যাপিটাল ইফতার বাজারের। তিন দশক ধরে চলছে এ আয়োজন। ক্যাপিটালের ইফতার আয়োজনে রয়েছে জাম্বো চিকেন রোস্ট, গরুর চপ, গরুর কিমা, গরুর কলিজা, মগজ, খাসির চপ, ফিরনি, তেহারি, ইলিশ পোলাও, দইবড়া, দই বুন্দিয়া, মিহিদানা লাড্ডুসহ আরও নানা কিছু। ক্যাপিটাল ইফতার বাজারের স্বত্বাধিকারী জালাল উদ্দিন বলেন, ক্যাপিটাল সব সময়ই গুণগত মান ও দামের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। এ জন্যই ক্রেতারা এখানে নিয়মিত আসেন। তাদের শতাধিক ইফতারের আইটেম রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বেইলি রোডের আরেক আকর্ষণ 'পিঠাঘর'। ঐতিহ্যবাহী পিঠাঘরে রোজাদারদের জন্য থাকছে চিতই, তেলেভাজা, পাটিসাপটার মতো সুস্বাদু সব পিঠা। ৪৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ফখরুদ্দিন বাবুর্চির ইফতার সামগ্রীর চেয়ে ক্রেতাদের নজর বেশি বিরিয়ানির দিকে। দেদার বিক্রি চলছে ফখরুদ্দিনের বিরিয়ানি।
বেইলি বারবিকিউতে হালিম, ড্রামস্টিক, শাহি জিলাপি, চিকেন শর্মা, কাবাব রোলসহ ৩১ ধরনের ইফতারি পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়াও চার ক্যাটাগরিতে প্যাকেজ ইফতার সামগ্রী রয়েছে এখানে। ২২০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে এ প্যাকেজ ইফতারি পাওয়া যাচ্ছে। ভিন্নধর্মী ইফতার সামগ্রীর দোকান ফ্রেশকো। জুস ও শরবতের আইটেমে ভরপুর এ দোকান। আনারস, বেদানা, মাল্টা, কমলা, পেঁপেসহ ২৫ ধরনের ফলের পানীয় পাওয়া যাচ্ছে এখানে। এ ছাড়া বেইলি রোডের সুইস, স্কাইলার্ক, হ্যালভেশিয়া, বুমার্স, মিস্টার বেকার, নবাবি ভোজ, আমেরিকান বার্গারেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়।
তবে ইফতারের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বললেন, গতবারের চেয়ে এবার সব আইটেমের দাম বাড়তি। তবে বিক্রেতাদের মত ভিন্ন। ক্যাপিটালের স্বত্বাধিকারী জালাল উদ্দিন বললেন, তারা গতবারের দামই রাখছেন। অন্য বিক্রেতারা বলেন, কিছু কিছু আইটেমের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মাংসের আইটেমে কিছুটা দাম বেড়েছে।