পোস্টার-ব্যানারে শ্রীহীন ঢাকা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

বিশেষ প্রতিনিধি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত এলাকা থেকে অবৈধ ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড সরিয়ে নিতে গত ৩০ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মেয়র আনিসুল হক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগে এসব সরিয়ে নিতে গত ১৫ মে সংবাদ সম্মেলন করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান মেয়র। কিন্তু অনুরোধে তেমন সাড়া মেলেনি। বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যানার-পোস্টারের ছড়াছড়ি চোখে পড়েছে। অবশ্য এর মধ্যে ঝড়বৃষ্টিজনিত কারণে দু-একটি ব্যানার-বিলবোর্ড প্রাকৃতিকভাবেই অপসারণ হয়ে গেছে। তবে সে তুলনায় যুক্ত হয়েছে আরও বেশি। শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়ম অমান্য করে টানিয়ে রাখা ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডের অধিকাংশই রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিলবোর্ডের তেমন দৌরাত্ম্য দেখা না গেলেও ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুনের ছড়াছড়ি চোখে পড়েছে। ফ্লাইওভারের পিলারে এসব টানিয়ে
রাখার ব্যাপারে বেশ উৎসাহ এখন সবার। শহরের বিভিন্ন ফ্লাইওভারের পিলার পোস্টার-ব্যানারে রীতিমতো মুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মহাখালী ফ্লাইওভারের অবস্থা সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ। সম্প্রতি চালু হওয়া মগবাজার ফ্লাইওভারের পিলারও রেহাই পায়নি। রাজনৈতিক নেতার শুভেচ্ছা-অভিনন্দন বিনিময় থেকে শুরু করে সিনেমা-কোচিং-সুপারশপসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচিত্র সব পোস্টার-ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে
নগরীর আসল চেহারা।
গত ৩০ মে মহাখালী ফ্লাইওভারের রেলক্রসিং-সংলগ্ন পিলারে পাওয়া গেল একটি অনলাইন বুকশপের বিজ্ঞাপন, শাহীন সিনেমা হলে চলমান তৎকালীন চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত পোস্টার। মাসখানেক আগে পেরিয়ে যাওয়া জাতীয় পার্টির কাউন্সিল কেন্দ্র করে তৈরি করা পোস্টার এখনও সংগঠনের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাদের ছবি নিয়ে ঝুলে আছে পিলারের গায়ে।
গুলশান-মহাখালী লিংক রোডের পশ্চিম দিকে বেশ কয়েকটি বড় ব্যানার-ফেস্টুনের দেখা মিলল। এর মধ্যে একটি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তৈরি করা সাইনবোর্ড। এই সাইনবোর্ড টানিয়েছেন ছাত্রলীগের আরেক নেতা।
এ ছাড়াও শহরের বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, টেলিফোন লাইনের খুঁটি, সড়ক-সংলগ্ন ভবন কিংবা স্থাপনার দেয়াল- সর্বত্রই পোস্টার টানানো হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বিলবোর্ড বা ইউনিপোলের বিস্তার কমলেও পোস্টারের বাড়াবাড়ি কমেনি। প্রধান সড়কে স্থান না পেয়ে কিছু অলিগলিতে ঠাঁই নিয়েছে অনেক বিলবোর্ড। দোকানে দোকানে সাইনবোর্ড টানানোর ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হচ্ছে না।
বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রচারের পাঁয়তারাই বেশি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাতায়াতের পথে রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টারের দৌরাত্ম্য বেশি। এসব পয়েন্ট থেকে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রায়ই প্রচারপণ্য উচ্ছেদ করা হলেও দু-একদিনের ব্যবধানেই আবার নতুন করে টানানো হয়। বিজয়সরণি এলাকায় রাজনৈতিক প্রচারের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও বিউটিফিকেশন সেলের প্রধান ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা সমকালকে জানান, তারা প্রতিনিয়ত এসব অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার উচ্ছেদ করছেন। উচ্ছেদের পরদিনই যদি আবার এভাবে কেউ লাগায় তাহলে আর কত পরিষ্কার করা যায়। তিনি বলেন, তারপরও দুয়েক দিনের মধ্যে অভিযান শুরু হবে। যাদের নামে পোস্টার পাওয়া যাবে, তাদেরকেও এই দায় নিতে হবে।
মেয়র আনিসুল হক বলেন, রাজনৈতিক নেতার মডেল হয়ে কেউ যদি এটা করেন, তাহলে খুবই দুঃখজনক। নিয়ম অমান্য করে পোস্টার, ব্যানার লাগানো বন্ধ করতে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, 'অনেক কষ্ট করে বিলবোর্ড-ব্যানার উচ্ছেদ করে শহরকে পরিষ্কার করেছি। দয়া করে আপনারা নষ্ট করবেন না।'