ধারাবাহিক হত্যা রুখতে চাই সামাজিক প্রতিরোধ

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র ষড়যন্ত্র করছে। এ জন্য একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলছে। তবে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে পুলিশ বা সরকারের একার পক্ষে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। জঙ্গিদের মূলে আঘাত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে পাড়ায়-মহল্লায় সর্বদলীয় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজন এ মত প্রকাশ করেন।
সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে এ গোলটেবিল বৈঠক হয়। 'সন্ত্রাসবাদ, নৈতিকতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার :জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত' শীর্ষক এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান। বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সাংবাদিক আবেদ খান, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একেএম নূর-উন-নবী, অধ্যাপক শফি আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, শহীদ সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী, বিআইএসএসের চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সভাপতি এ কে এম এ হামিদ, মাজেদা শওকত আলী, উন্নয়নকর্মী রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ। সঞ্চালনা করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি ম হামিদ।
কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, জঙ্গিদের সমূলে আঘাত করতে তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আঘাত করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে। আবার সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলে সামাজিক শক্তিও দাঁড় করাতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক আন্দোলন গড়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১১ জেলায় নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশেই তা করা হবে।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। এ বিষয়ে আলেমরা একত্র হয়ে একটি শক্তি তৈরি করলে অপশক্তি মোকাবেলা অনেক সহজ হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সর্বদলীয় কমিটি করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভিনদেশি মদদ দেশীয় পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় উল্লেখ করে আবদুুর রশিদ বলেন, জঙ্গিদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর কুশীলবদের নজরে রাখতে হবে। সন্ত্রাসী সংগঠন ও এর মদদদাতাদের আঁতাত ভেঙে দিতে হবে। অন্যথায় দেশ নিরাপদ হবে না।
আবেদ খান বলেন, জঙ্গিবাদের পেছনে পাকিস্তানের আইএসআই সক্রিয় রয়েছে। গত ছয় মাস ধরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।