অভিযানের নামে পুলিশের বাণিজ্য চলছে :বিএনপি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

জঙ্গি দমনে 'সাঁড়াশি অভিযানে'র নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে 'বাণিজ্যের' সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পুলিশনির্ভর অবৈধ এই ভোটারবিহীন সরকার ঈদের আগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে বখশিস হিসেবে বাণিজ্যের সুযোগ করে দিচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গুপ্তহত্যা ঠেকাতে যৌথ অভিযান শুরুর পর সারাদেশে ১২শ'র বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জঙ্গি দমনে অভিযান বলা হলেও বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব খবর পাচ্ছি, তাতে গণগ্রেফতারের নামে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় ঢুকছে, কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ যাকেতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি উচ্চ আদালতে ৫৪ ধারাবিষয়ক যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সেই নিদের্শনা উপেক্ষা করছে। আমরা মনে করি, এটি আদালতের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ধৃষ্টতার শামিল। পাবনায় আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডে হত্যার নিন্দা
জানিয়ে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট হিসেবে সব তথ্য পেয়ে থাকেন। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের একদিন পরই নিত্যরঞ্জন পান্ডেকে কী করে কুপিয়ে হত্যা করলে দুর্বৃত্তরা? তিনি বলেন, আসলে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত জঙ্গিবাদ দমন করতে চান না। মূলত বিরোধী দল দমনই তাদের উদ্দেশ্য।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সারাদেশে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, সব দিক থেকে ব্যর্থ এই সরকার, কুপথগামী সরকার। এই সরকার জনগণের কথা ভাবে না। গণতন্ত্রের পথে চলে না। দেশে গণতন্ত্র নেই বলেই জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।