আ'লীগের ২ ডজন নেতা নৌকা পেতে মরিয়া

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

ময়মনসিংহ ব্যুরো ও ঈশ্বরগঞ্জ সংবাদদাতা

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে আগামী ১৮ জুলাই উপনির্বাচন হবে। ২ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনবারের নির্বাচিত এমপি অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ডা. মজিবুর রহমান ফকিরের মৃত্যুর পর এ সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। আওয়ামী লীগের প্রায় দুই ডজন নেতা দলীয় প্রতীক নৌকা পেতে মরিয়া হয়ে জোর তদবির করছেন। দলীয় মনোনয়নের জন্য গতকাল শনিবার থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রে গিয়ে ভিড় করছেন।
গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮৭৩ ও নারী ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ১৬৩। ইসি ৯ জুন এ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ জুলাই ভোটের দিন ধার্য করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২০ জুন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ জুন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ জুন।
তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যাপ তাদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলের ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারের নাম ঘোষণা করেছে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে প্রচার ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মতিউর রহমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক শরীফ হাসান অনু, কৃষিবিদ ড. সামীউল আলম লিটন, মুর্শেদুজ্জামান সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধুভূষণ দাস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা একেএম আবদুর রফিক, সাবেক পৌর মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম হবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল হক, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোজাম্মেল হক।
গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল বলেন, এত প্রার্থী নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ৪-৫ প্রার্থীর অবস্থান ভালো হলেও অন্যদের ভালো নয়। এত প্রার্থীর ভিড়ে যোগ্য প্রার্থীকে দলীয় প্রধান নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেবেন বলে তারা আশাবাদী।
এ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, এবং ব্যানার-ফেস্টুন, তোরণ নির্মাণ, পথসভা ও পরিচিতি সভাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দেওয়া হচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে চলছে জোর লবিং।