ছাত্রলীগের নির্দেশে জাবিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অপহরণে বাধা দেওয়ায় ওই শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটুর নির্দেশে হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অপহৃত এক বহিরাগত তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন বিডিনিউজের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গোলাম সরোয়ার নামে এক বহিরাগত যুবকের মোটসাইকেল থেকে এক তরুণী লাফ দেয়। তাকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে সাহায্য চান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ওই যুবককে আটক করে। পরে
শফিকুল ইসলাম সংবাদ সংগ্রহ করতে যান এবং অভিযুক্ত যুবককে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় আবু সুফিয়ান চঞ্চল সাংবাদিক শফিককে ফোন দিয়ে অপহরণকারীকে নিজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। পরে মহিতোষ রায় টিটো ও ছাত্রলীগ কর্মী শামীম মোল্লা ওই যুবককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শফিকুল প্রতিবাদ করলে তার ওপর চড়াও হয় টিটু। এক পর্যায়ে তাকে লোহার রড, শিকল ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে টিটু ও তার অনুসারীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলায় অংশ নিয়েছিল শাখা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ৪০তম ব্যাচের মহিতোষ রায় টিটু (ইতিহাস), সহ-সম্পাদক ইকরামুদ্দিন অমি (মার্কেটিং), ৪১তম ব্যাচের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্রলীগ কর্মী সুব্রত কুমার সাহা, ৪২তম ব্যাচের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বায়েজীদ, ৪৩তম ব্যাচের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিফাত আহমেদ রাতুল, ইতিহাসের আরিফুল ইসলাম প্রিতম, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বিপ্লব হোসেন, ভূগোল ও পরিবেশের আজমুস্সাহান নওরোজ প্রণয়, পরিসংখ্যানের ইকরাম নাহিদ, ভূগোল ও পরিবেশের আল-আমিন, ৪৪তম ব্যাচ ও ইতিহাস বিভাগের আবদুল্লাহ আল ফারুকী ইমরান, তপু সুলতান, ফাহাদ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের রবিন সরকার। এরা সবাই মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।