যথাসময়ে ভ্যাট না দিলে জরিমানা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬      

বিশেষ প্রতিনিধি

যথাসময়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ না করলে এককালীন জরিমানা দিতে হবে। এর পরিমাণ সর্বোচ্চ পঁচিশ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বিধান রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসের ভ্যাট পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে নোটিশ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, যথাসময়ে ভ্যাটের অর্থ জমা দিতে না পারলে যে পরিমাণ ভ্যাট আদায়যোগ্য, তার সঙ্গে আরও পঁচিশ হাজার টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।
এ বিষয়ে এনবিআরের পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উৎসে থেকে প্রযোজ্য হারে মূল্য সংযোজন কর কর্তনের পর সরকারি কোষাগারে যথাসময়ে সে অর্থ জমা দেওয়া না হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারের প্রাপ্য ভ্যাটের সঙ্গে অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা আদায়কারী সংস্থা উভয়েই এ জন্য দায়ী থাকবে।
ভ্যাট বিভাগের একটি সূত্র বলছে, জরিমানা আরোপ করা ঠিক হয়নি। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে আদায়ে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একজন ভ্যাট কমিশনার সমকালকে বলেন, জোর করে কিংবা আইন কঠোর করে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। ভ্যাট আদায় বাড়াতে হলে সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জরিমানা করলে পরিশোধে অনুৎসাহিত হবে তারা। এতে করে ফাঁকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তার মতে, জরিমানা না করে বরং নজরদারি বাড়াতে হবে।
এনবিআর সূত্র বলছে, আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট দেওয়ার কথা বলা হলেও তা ঠিকমতো প্রতিপালিত হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বাজেটে জরিমানার যে বিধান করা হয়েছে, তা কার্যকর হলে সবাই নিয়মিত ভ্যাট দিতে উৎসাহিত এবং আইন মেনে চলার ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হবেন। এনবিআরের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে,
আদায়যোগ্য ভ্যাটের ৭০ ভাগই ফাঁকি দেওয়া হয়। আদায় প্রক্রিয়া সহজ, নিবিড় তদারকি ও পুরো ভ্যাট বিভাগকে অটোমেশনের আওতায় আনতে পারলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা অর্ধেক কমে আসবে। সংগৃহীত রাজস্বের ৩৯ ভাগই আসে ভ্যাট থেকে। ২০১৬-১৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাটের অংশ ৭৪ হাজার কোটি টাকা।
কিছু পণ্যের দাম বাড়াতে পারে :প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় পর্যায়ে আরও কিছু পণ্যের ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত ট্যারিফের ফলে ওইসব পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে ভোক্তাকে আগের চেয়ে বেশি দামে তা কিনতে হবে। এসবের মধ্যে রয়েছে_ টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, কিচেন টাওয়েল, ডুপ্লেক্স বোর্ড ইত্যাদি। আগে প্রতি মেট্রিক টন টয়লেট টিস্যুতে ৫৭ হাজার টাকা প্রযোজ্য হারে ভ্যাট আদায় করা হতো। এখন আদায় করা হবে ৭১ হাজার ২৫০ টাকা। আগে প্রতি টন ন্যাপকিন টিস্যুর ট্যারিফ মূল্য ছিল ৬০ হাজার টাকা। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। আগে প্রতি টন কিচেন টাওয়ালের ট্যারিফ মূল্য ছিল ৫৫ হাজার টাকা। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৭৫০ টাকা। আগে প্রতি টন ডুপ্লেক্স বোর্ডের ট্যারিফ মূল্য ছিল ২৩ হাজার টাকা। এ হারে ভ্যাট আদায় করা হতো। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা। একই সঙ্গে সিমপ্লেক্স পেপার, প্যাকিং পেপার, হোয়াইট লাইনার পেপার, ক্রাফট লাইনার পেপারের ট্যারিফ মূল্য বাড়ানোর ফলে ওই সব পণ্যের দামও বাড়তে পারে।